পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে মো. রিয়াজ উদ্দিন ও মো. শহীদ বাদশা সবুজ নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের সময় তারা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক ড.
শহীদ হোসেন চৌধুরীর কক্ষের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক রিয়াজ উদ্দিন বাউফল উপজেলার বাসিন্দা। তিনি নিজেকে ‘ক্রাইম পেট্রোল
ডট কম’ নামের একটি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। অপর ব্যক্তি শহীদ বাদশা সবুজও
বাউফল উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি নিজেকে ‘প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার প্রতিনিধি বলে
পরিচয় দেন।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দাপ্তরিক
কার্যক্রম চলাকালে ওই দুই ব্যক্তি কার্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে
অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে তারা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বাকবিতণ্ডায়
জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরে তাদের তল্লাশি করে রিয়াজ উদ্দিনের জামার বুক পকেট থেকে একটি মোবাইল
ফোন জব্দ করা হয়। প্রশাসনের দাবি, মোবাইল ফোনটিতে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ডিং
চালু ছিল। ওই ফোন ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম গোপনে
ধারণ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জব্দ
করা মোবাইল ফোনসহ দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা নিজেদের সাংবাদিক
হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তাদের সাংবাদিক পরিচয় নিয়েও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্দেহ
তৈরি হয় বলে জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি)
মো. আকিব রায়হান বলেন, জেলা প্রশাসকের কক্ষে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে সিসিটিভি ক্যামেরায়
কক্ষের বাইরে দুই ব্যক্তিকে প্রশাসনের কর্মীদের সঙ্গে হট্টগোল করতে দেখা যায়। তাদের
আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
তিনি বলেন, পরে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ উদ্দিনের কাছ থেকে একটি মোবাইল
ফোন পাওয়া যায়। ফোনটিতে ভিডিও রেকর্ডিং চালু ছিল। ওই ফোন দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের
দাপ্তরিক কার্যক্রম গোপনে ধারণ করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে দুজনকে পুলিশের কাছে
হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে আটক দুজনের দাবি, তারা একটি অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে
গিয়েছিলেন। অভিযোগটি নিয়ে একাধিক কর্মকর্তার টেবিলে পাঠানোয় তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন
বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানাতে তার কক্ষের সামনে গেলে
কার্যালয়ের কর্মীরা তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় তারা সেখানে অবস্থান করেন।
গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজ উদ্দিন বলেন, তিনি ভুলবশত
ভিডিও রেকর্ডিং বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি তাদের ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন
তিনি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান
বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ
করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর
মন্তব্য করুন