নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলি করা হয়েছে। সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের অভিযোগ ওঠার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের
রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকিয়া
সরওয়ার লিমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান,
সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী করকে খুলনায় এবং
ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে চট্টগ্রামে বদলি
করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা এসেছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সদর উপজেলা
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকেও অফিসে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ
দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এখনো নারায়ণগঞ্জ সদরেই দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে সদর, ফতুল্লা
ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
দেওয়া হয়।
নোটিশ সূত্রে জানা
যায়, গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। এ সময়
বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠে,
অনুপস্থিত থাকলেও আগের দিন ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় তারা স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন।
নোটিশে এ ঘটনাকে
সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারার অপরাধের শামিল বলে
উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকা বা বিলম্বে
উপস্থিত হওয়াকে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন বলেও
উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা
করতে বলা হয়।
কারণ দর্শানোর
নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার,
সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম
কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার,
চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস
আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার রয়েছেন।
এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ
রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম
সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ
এবং চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতকেও নোটিশ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন
সূত্রে জানা গেছে, নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক
(রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিয়েছেন।
রেভিনিউ ডেপুটি
কালেক্টর জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী একজন
কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই অফিসে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। যারা নির্ধারিত
সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে রয়েছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের বিষয়েও
বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৩১ আগস্ট সকালে
নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে
যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল
উদ্দিন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা
ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সকাল
৯টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বেশ
কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে পাওয়া যায়নি। এ সময় তিনি হাজিরা খাতা
পর্যালোচনা করেন।
প্রায় ২০ মিনিট পর
বিষয়টি জানতে পেরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত
হন। এর কিছুক্ষণ পর ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং
মারমাও কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
আকস্মিক পরিদর্শনে
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম
স্বাক্ষরের অভিযোগের বিষয়টি নজরে আসে। পরে প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায়
কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং দুই সহকারী কমিশনারকে বদলির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে
জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন