মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মামলার ১০৬তম ধার্য তারিখে নারায়ণগঞ্জের
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালত এ আদেশ
দেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশনা দেন বলে আদালত
সূত্রে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ জানান, রিফাত
বিন ওসমানকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তার আইনজীবীসহ তদন্ত কর্মকর্তার
কার্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। শুনানি শেষে মামলার
পরবর্তী তারিখ আগামী ১ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিফাত বিন ওসমানকে আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ
সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
মঙ্গলবারের শুনানিতে রিফাত ছাড়াও শেখ তায়েব উদ্দিন জ্যাকি, ইউসুফ
হোসেন লিটন, কাজল হাওলাদার, সাফায়েত
হোসেন শিপন ও ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ আদালতে হাজির হন। কারাগার থেকে হাজিরা দেন
আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামশেদ শেখ।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা চলছে। এর আগে ১২
আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০৫তম শুনানিতেও তদন্তকারী সংস্থা র্যাব প্রতিবেদন জমা দিতে
পারেনি। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি আদালত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা
দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
সময় তিন দফা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ১ জুলাই সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হলে ১২ আগস্ট
প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, দীর্ঘ
সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিতে পারেনি তদন্তকারী
সংস্থা। আদালতের নির্ধারিত সময় একাধিকবার বাড়ানোর পরও প্রতিবেদন না পাওয়ায় মামলার
বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার
পর নিখোঁজ হয় ১৭ বছর বয়সী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শহরের ৫
নম্বর খেয়াঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা কুমুদিনী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার
করা হয়।
এ ঘটনায় ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি সদর মডেল
থানায় হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন জেলা পুলিশকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে
ত্বকী হত্যায় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক
নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
মামলার তদন্তে বিলম্ব নিয়ে ত্বকীর পরিবারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন
সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র দাখিল না
হওয়ায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি
জানিয়েছেন তারা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন