নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কয়েক
ঘণ্টার ব্যবধানে পার্কিং করে রাখা দুটি স্টাফ বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে
মামলা হয়েছে। ফতুল্লা থানায় করা মামলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ৩৪ নেতাকর্মীর
নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাস
মালিক শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মোহাম্মদ মাহাবুব আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রথম
ঘটনাটি ঘটে ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকার নাদিয়া
প্লাজার সামনে। সেখানে একটি স্টাফ বাস পার্ক করে রাখা ছিল। অভিযোগ করা হয়েছে,
রাতের কোনো এক সময় বাসটিতে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুর করা হয়। আগুনে
বাসের ভেতরের সব আসন এবং গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর একই দিন
ভোর সাড়ে ৬টার দিকে আরেকটি বাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একমি বিল্ডিংসংলগ্ন
সুরুজের গ্যারেজের সামনে পার্ক করা ‘আনন্দ বাস’টিতে আগুন লাগানো হয় বলে মামলায়
উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বাসটির তিনটি আসন পুড়ে যায়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছেন, আসামিরা
দলবদ্ধ হয়ে এসে পার্কিং করে রাখা বাস দুটিকে লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে
আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা ঘটনাস্থল
ত্যাগ করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ৩৪
জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ,
যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০
থেকে ৩০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাস দুটি জব্দ করে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে
বাসগুলো মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায়
স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে মামলার এজাহারে থাকা
অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন