নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড সভাপতিকে পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত জসীম উদ্দিন ফতুল্লা কায়েমপুর এলাকার মাদবর বাড়ির আব্দুর
রহমানের ছেলে এবং জামায়াতে ইসলামীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। গুরুতর
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা (খানপুর) হাসপাতালে
ভর্তি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুলের সহযোগী
হিসেবে পরিচিত শাহাদাৎসহ কয়েকজন সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা ও
সহিংসতা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত হন। জামিন পেয়ে বের হওয়ার পর থেকেই
তারা জসীম উদ্দিনকে নজরদারিতে রাখছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত জসীম উদ্দিন বলেন, "রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কায়েমপুর এলাকায়
পৌঁছালে শাহাদাৎ ও তার সহযোগীরা আমার পথরোধ করে। তারা আমাকে বলে— 'এমপি আল আমিন ও জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারের সহায়তায় তোরা
আমাদের গ্রেপ্তার করাচ্ছিস।' একপর্যায়ে ‘ডিসেম্বরে আপা
আসবো, তার আগেই তোরে মাইরা ফেলবো’ বলে হুমকি দিয়ে সুইচ গিয়ার
(ধারালো ছুরি) দিয়ে আমার মাথায় ও শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রথম দফায় হামলার পর
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে
যাওয়ার পথে কায়েমপুর এলাকাতেই পুনরায় তার ওপর হামলা ও মারধর চালায় হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে
ভর্তি করায়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব
আলম জানান, "ঘটনাটি জানার পরপরই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ‘আহম্মদ’ নামে একজনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। হামলার সাথে
জড়িত বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।"
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন