নিরাপদ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনে সময়ের পরিকল্পিত ব্যবহার, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নারায়ণগঞ্জ গ্রাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন (এনজিএ) ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি
বলেন, শিল্প ও বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক ও
সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক সহমর্মিতা,
মানবিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য শিক্ষার পাশাপাশি
সংস্কৃতি ও পাঠচর্চার বিকল্প নেই। বিশেষ করে মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি
কমিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বই পড়া ও পাঠচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
শনিবার
(৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফতুল্লার তল্লায় সাধারণ পাঠাগার প্রাঙ্গণে এনজিএ স্টাডি
সার্কেলের সাধারণ পাঠাগার ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি
এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে
‘নিরাপদ ও সুন্দর জীবনের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
পরে মোহাম্মদ হাতেম কেক কেটে স্টাডি সার্কেলের নতুন ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
করেন।
সংগঠনটির
সভাপতি কুতুবউদ্দিন শাহীনের সভাপতিত্বে এবং চৌধুরী মাহবুব রহমানের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন মুফতি ওমর ফারুক।
অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা
পরিষদের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউছার আশা, এনজিএর
উপদেষ্টা ও ড্রিম হলিডে পার্কের স্বত্বাধিকারী প্রবীর কুমার সাহা এবং সাধারণ
পাঠাগারের উপদেষ্টা শমশের আলী।
সেমিনারে
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও সাধারণ পাঠাগারের
শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. দিদারুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন এনজিএর সাধারণ
সম্পাদক মঈন আহসান, সাধারণ পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক রবীন আহমেদ, অধ্যাপক আফরোজা
সুলতানা রুমি, সাজ্জাদ হাসাইন কিশোর ও হাসিন রায়হান।
প্রধান
অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, জীবনে সাফল্য অর্জন এবং একটি নিরাপদ ও
সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সময়ের যথাযথ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে
নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে সামাজিক পরিসরে পাঠচক্রের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ
গঠনের লক্ষ্যেই এনজিএ সাধারণ পাঠাগার প্রাঙ্গণে স্টাডি সার্কেল চালু করেছে।
তিনি আশা
প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়বে এবং
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানের
শেষ পর্যায়ে কাশীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কাশীপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবদ্দিনসহ প্রয়াত
মুক্তিযোদ্ধা, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং প্রয়াত বাবা-মায়েদের আত্মার
মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মন্তব্য করুন