শনিবার (৭ নভেম্বর)
সকালে বন্দর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির
আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন
কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া
ও মোনাজাত করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন
আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর)
আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার।
এ সময় উপস্থিত
ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন
তোতা, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন, মৎস্য কর্মকর্তা রফিক
আবেদীন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মাহমুদ হাসান, শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল
কাইয়ুম খান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা
জাহিদুল হক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রিদোয়ান আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ,
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন, প্রকৌশলী এসএম সামিন ইশরাক, বন্দর
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল আলম জাহিদ, সমবায় কর্মকর্তা আলাউদ্দিন মিয়া
এবং নৌবাহিনী ডকইয়ার্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের
কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
প্রধান অতিথির
বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক
প্রেক্ষাপট ও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি ওই সময় রক্ষীবাহিনীর
প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন সময়ে
রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম ও হত্যার
ঘটনা ঘটেছিল।
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী
সময়ে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের
পর উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাংলাদেশের হাতে না এসে ভারতে চলে যায়।
আবুল কালাম বলেন,
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে একটি
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে
গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পরবর্তী
সময়ে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী
গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন,
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে
দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার
বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন