বাজারে লেনদেনের সময় ছেঁড়া বা জীর্ণ নোট নিয়ে ভোগান্তি নতুন নয়। তবে সম্প্রতি সেই ভোগান্তিতে যোগ হয়েছে আগুনে কোণা পোড়া কাগুজে নোট। বিভিন্ন বাজার ও দোকানে এসব নোট গ্রহণের পর অন্যত্র লেনদেন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ফলে একটি নোট হাতবদল হলেও শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তৈরি হচ্ছে বিড়ম্বনা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক
ব্যবসায়ী না বুঝেই এসব নোট গ্রহণ করছেন। পরে অন্য কোনো দোকান বা ব্যবসায়ীর কাছে
দিতে গেলে সেই নোট নিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে। ফলে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে
ঘুরছে পোড়া কোণার নোট, আর শেষ পর্যন্ত যার হাতে থেকে যাচ্ছে, তাকেই পড়তে হচ্ছে
ভোগান্তিতে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন,
সাধারণত ব্যস্ততার কারণে লেনদেনের সময় প্রতিটি নোট ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়
না। বিশেষ করে ছোট দোকান, কাঁচাবাজার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছে দিনভর অসংখ্য নোট
আসে। এর মধ্যে ছেঁড়া, জীর্ণ কিংবা আগুনে সামান্য পোড়া নোটও চলে আসছে।
পরে এসব নোট অন্যের
কাছে দিতে গেলে শুরু হচ্ছে বিপত্তি। কেউ কেউ নোটটি নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি
জানাচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প নোট দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীকে। এতে আর্থিক
ক্ষতির পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতি।
সংশ্লিষ্টদের মতে,
মাদক সেবনের ক্ষেত্রে কাগুজে নোট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কিছু
মাদক গ্রহণের সময় কাগজের নোট ব্যবহার করতে গিয়ে এর একাংশ আগুনে পুড়ে যায় বা দগ্ধ
হয়। পরে ওই নোটগুলো বিভিন্নভাবে বাজারের লেনদেনে ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের
অভিযোগ, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের মাধ্যমে এসব নোট পরিবর্তনের সুযোগ
সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে নোটটি নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছেন
কিংবা অন্য কোথাও চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে একই নোটকে কেন্দ্র করে এক ধরনের
অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে,
বাজারে কাগুজে নোটের ব্যবহার এখনো ব্যাপক। তাই ছেঁড়া, জীর্ণ বা আংশিক পোড়া নোট
নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে নোট পরিবর্তনের বিষয়ে জনসচেতনতা
বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত নোট কীভাবে এবং কোথায় পরিবর্তন করা যাবে,
সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নিত্যদিনের লেনদেনে
একটি নোটের কোণা পোড়া হলেও সেটি গ্রহণ করা নিয়ে তৈরি হচ্ছে দ্বিধা। আর সেই দ্বিধা
থেকেই এখন সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে ভোগান্তি।
তবে আগুনে পোড়া
প্রতিটি নোটই যে মাদক সেবনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
নোট পোড়ার অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
তদন্ত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর
ADVERTISEMENT
মন্তব্য করুন