শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায়
মিছিলপূর্ব সমাবেশ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল
বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর
সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন বলেন, বন্দরে যারা অন্যায় ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা
বলেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার শিকার হতে হচ্ছে।
বুলবুল হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘সিফাত বাহিনী’ জড়িত বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের
অভিযোগ রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পরও তাদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন,
সন্ত্রাসীরা শুধু সাধারণ মানুষকেই হয়রানি করেনি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এরপরও তাদের বিরুদ্ধে
কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, কিশোর গ্যাং
হিসেবে পরিচিত ‘সিফাত বাহিনী’কে সময়মতো আটক করা হলে বুলবুল হত্যার মতো ঘটনা এড়ানো
সম্ভব হতে পারত।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাফেজ কবির হোসেন বলেন, দায়িত্বে
থেকেও যারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অবৈধ সুবিধা
নিয়েছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে
প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়ে সেখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা নিষ্ক্রিয় অবস্থানে
থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পেছনে প্রশাসনের কিছু
কর্মকর্তার ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের
সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর করার আহ্বান
জানান।
‘সিফাত বাহিনী’কে নবীগঞ্জে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের সদস্যরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে এবং কারা তাদের সহযোগিতা
করছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান খেলাফত মজলিসের এই নেতা।
পাশাপাশি ‘সিফাত ও আবু সাঈদ বাহিনী’র কর্মকাণ্ড তদন্ত করে তাদের সঙ্গে বর্তমান
সরকারের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটিও
খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
খেলাফত
মজলিসের বন্দর থানা সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফরিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও
বক্তব্য ও উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহসভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, সাধারণ
সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা
মিজানুর রহমান, মহানগর সহসাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ
শাব্বীর আহমাদ, সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ,
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, বন্দর উপজেলা সভাপতি মুফতী আবুল কাসেম, ফতুল্লা
থানা সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক, মহানগর বায়তুলমাল সম্পাদক প্রভাষক
মাইদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মুফতী তৌফিক বিন হারিছ,
শ্রমিক মজলিসের জেলা সভাপতি ফারুক আহমদ, ইসলামী যুব মজলিসের জেলা সভাপতি রিফাত আহমদ সাজিদ, ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ ও জেলা সভাপতি
মুহাম্মদ আনাসসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন