দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি।
তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত ও মানসম্মত
চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার
উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স,
ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা
পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল
ক্যাম্প ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা
বলেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়ার
দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার
ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,
শুধু ওষুধ কিংবা কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায়
ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে
হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার
পাশাপাশি বাড়িঘর, ছাদ, ড্রেন, নালা ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে
হবে। জমে থাকা পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই ব্যক্তিগত
সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও জরুরি।
সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার প্রস্তুতির পাশাপাশি
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। সরকারি হাসপাতালে
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে
নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যা সংরক্ষণ এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথাও
তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা
দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবারও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি
নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী,
চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলার
টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে প্রায় ৪ কোটি টিকা
সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা
টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
তিনি বলেন, শুধু টিকা দেওয়াই যথেষ্ট নয়; শিশুদের
পুষ্টি নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্টির কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের
জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি,
পরিচর্যা এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের আরও
কাছে নিয়ে যেতে সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায়
উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, শুধু শয্যা বাড়ালেই হবে না। রোগীদের
প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা এবং প্রয়োজনীয়
চিকিৎসা সরঞ্জামও নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হলে
রাজধানী ও জেলা শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও কমবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য
মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম,
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, চিকিৎসক,
স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন