বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সন্তানরা বিদেশ থেকে দেশে
ফেরার পর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা
গেছে।
বাবু সারোয়ার ছিলেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
খান সাহেব ওসমান আলীর ছেলে। তাঁর সৎভাইদের মধ্যে ছিলেন এ কে এম শামসুজ্জোহা, যিনি
নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের বাবা।
১৯৭৮ সালে চিত্রনায়িকা কবরীকে বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সারোয়ার। দীর্ঘ
প্রায় তিন দশকের দাম্পত্য জীবনের পর ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এ সংসারে তাঁদের
তিন ছেলে—শাকের ওসমান চিশতী, জয়নাল চিশতী ও শান ওসমান চিশতী। কবরী ও বাবু
সারোয়ারের বিয়ে ও পরবর্তী বিচ্ছেদের তথ্য বিভিন্ন পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনেও উঠে
এসেছে।
তিন ছেলের মধ্যে শাকের ওসমান চিশতী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে
চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন বলে জানা
যায়। জয়নাল চিশতী কানাডায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই বসবাস করছেন। ছোট
ছেলে শান ওসমান চিশতী ঢাকায় থাকেন।
২০০৭ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের
প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কবরী। নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বাবু
সারোয়ারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ
করা হয়। পরের বছর তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটে।
বাবু সারোয়ারের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেরও একটি
যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে গড়ে
ওঠা প্রতিরোধে তিনি নেতৃত্বদানকারীদের একজন ছিলেন বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক পুরোনো
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বাবু সারোয়ার ও কবরী আজমীর শরিফের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর ভক্ত ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সেই সূত্রেই তাঁদের তিন সন্তানের নামের শেষে ‘চিশতী’ যুক্ত করা হয়েছিল বলে জানা যায়
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন