নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে
সাঁওতাল কিশোরী রিয়া সরেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনায়
কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জেলার কয়েকটি
নাগরিক,
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক,
পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়ে এসব
দাবি জানানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি, নারায়ণগঞ্জ
পরিবেশ আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জ,
সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র ও তিতাস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার
প্রতিনিধিরা এসব স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে রিয়ার মৃত্যুর
প্রকৃত কারণ বের করতে প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে কারও
সম্পৃক্ততা থাকলে তাকে শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট
তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রিয়ার পরিবার ও
স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে
উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দিপু, অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল,
অ্যাডভোকেট মোস্তফা করিম, রঘু অভিজিৎ
রায়, সালাউদ্দিন আহমেদ, কবি
জিয়াবুল ইবন ও সাঁওতাল যুবক দানিয়েল মারান্ডি।
সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, রিয়া
সরেনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব প্রশ্নের
উত্তর পেতে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব ছাড়াই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে কারও
বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার
দাবি জানান তারা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জে ১৪
বছর বয়সী রিয়া সরেনের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা করে। পুলিশের
প্রাথমিক ধারণা ছিল,
রিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরে পরিবারের পক্ষ
থেকে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
রিয়ার নানা বাবুরাম মুরমুর
অভিযোগ, পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করতে চাওয়া হলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে
হত্যার আলামত পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিয়ার বাড়ি দিনাজপুরের
নবাবগঞ্জ উপজেলায়। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মা
রিবিকা মুরমুর সঙ্গে রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মঙ্গলখালী এলাকায় একটি ভাড়া
বাসায় বসবাস শুরু করে রিয়া। প্রায় দুই মাস আগে তার মা দিনাজপুরে ফিরে গেলেও রিয়া
ওই বাসাতেই থেকে যায়। পরে বাসার কাছের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্লাস্টিক পণ্য
তৈরির কারখানায় অস্থায়ীভাবে কাজ শুরু করে সে। একই কারখানায় তার মা-ও কাজ করেছিলেন।
বাবুরাম মুরমুর ভাষ্য, গত ৭
সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়িওয়ালী তানিয়া ফোন করে তাদের জানান, রিয়া ‘স্ট্রোক করেছে’। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দিনাজপুর থেকে
রূপগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পরদিন সকালে রূপগঞ্জ থানায় গেলে তারা জানতে পারেন,
রিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে
ধারণা করছে।
ময়নাতদন্ত শেষে রিয়ার মরদেহ
দিনাজপুরে নিয়ে দাফন করা হয়। পরে বাড়িওয়ালীর দেওয়া ‘স্ট্রোক’-এর তথ্য এবং মৃত্যুর
পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় বলে জানান তার নানা।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা
রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে উল্লেখ করে মামলা করতে চান। এ সময়
বাড়িওয়ালী তানিয়া ও তার স্বামী জুয়েলকে সন্দেহের কথা পুলিশকে জানান তারা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন