নারায়ণগঞ্জের বন্দরের
তিনগাঁও এলাকায় একটি পুকুরে মিঠাপানির কুমিরের উপস্থিতির খবরে স্থানীয়দের মধ্যে
উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে পুকুরটিতে প্রাণীটির দেখা মিলছে বলে জানিয়েছেন
বাসিন্দারা। কুমিরের চলাচলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি
রাতে পুকুর থেকে উঠে কুমিরটিকে একটি বাড়ির দিকে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই
সন্ধ্যার পর পুকুরপাড় ও আশপাশের এলাকায় চলাচলে সতর্কতা বেড়েছে। শিশুদের একা বাইরে
যেতে দিচ্ছেন না অনেক অভিভাবক।
স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার
বলেন, কয়েক দিন ধরে পুকুরটিতে কুমিরটির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক রাতে
সেটিকে পুকুর থেকে উঠে বাড়ির দিকে যেতে দেখেছেন তারা।
নাজমা বেগম নামে এক বাসিন্দা
বলেন, এলাকায় কুমির থাকার কথা জানার পর থেকেই সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায়
রয়েছেন। একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে স্থানীয় শিশু ফাহিমও। তার ভাষ্য, কুমির দেখার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে কুমিরটির পরিচয় নিয়ে
স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তিও রয়েছে। সালাম মিয়া নামে এক বাসিন্দা জানান, কেউ
এটিকে কুমির আবার কেউ গুইসাপ বলছেন। তিনি নিজে প্রাণীটি দেখেননি বলে জানান।
এদিকে খবর পাওয়ার পর স্থানীয়
প্রশাসন ও বন বিভাগ বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। পুকুরে নামা, অপ্রয়োজনে
পুকুরের কাছে যাওয়া কিংবা প্রাণীটির কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে
বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিরটিকে নিজেরা ধরতে বা তাড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। শিশু ও
গবাদিপশুকে পুকুরের আশপাশে না নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা
কামরুল আবেদীন বলেন,
কুমিরটির ভিডিও দেখে তারা এটিকে মিঠাপানির কুমির হিসেবে শনাক্ত
করেছেন। এটি মহাবিপন্ন প্রজাতির এবং সাধারণত শান্ত স্বভাবের বলে জানান তিনি।
কুমিরটি উদ্ধারে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি রাখা হয়েছে এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরপর
ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে জানান
তিনি।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার বলেন, স্থানীয়দের সতর্ক করে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি
গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রাণীটিকে উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে
হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।
এর আগে রোববার (২০
সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল দিনভর অভিযান
চালিয়েও কুমিরটি ধরতে পারেনি। পরে প্রাণীটি আগের পুকুর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার
দূরের অন্য একটি স্থানে চলে গেছে বলে খবর পাওয়া যায়।
বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের
সদস্য ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, প্রাণীটিকে
মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেটিকে আঘাত বা হত্যা না করে
নিরাপদে উদ্ধারে বন বিভাগকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কুমিরটির অবস্থান সম্পর্কে
কোনো তথ্য পেলে দ্রুত বন বিভাগ কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন