শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু
ধর্মাবলম্বী। তবে তার মা দাবি করছেন, শুভ মুসলিম ধর্ম
গ্রহণ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে মরদেহ দাহ করা হবে
নাকি দাফন—এ সিদ্ধান্ত এখন আদালতের ওপর নির্ভর করছে।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আগামী
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর
রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুভর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ
তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার
মরদেহ দাহ বা দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। পাঁচ দিন ধরে মরদেহটি থানায় লাশবাহী ফ্রিজ
অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের
পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে
গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং মরদেহের পাশ থেকে ১০০টি
ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম
আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ
(ডিবি)।
পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর এক সহযোগী
তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। সেখানে আগে থেকেই থাকা ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাকে
ঘিরে ফেলে। পরে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনকে রিমান্ডে
নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (৮
সেপ্টেম্বর) হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে ডিবি।
নবাব সলিমুল্লাহ রোডে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে
একটি ঝোপ থেকে ‘MADE
IN USA 7.65 MM’ লেখা পিস্তলটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে
পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল
মেহেদী বলেন, গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি
পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুভর বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত
একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে মাদকবিরোধী অভিযানেও তাকে আটক করা হয়েছিল।
পুলিশের একটি সূত্রের ভাষ্য, আমলাপাড়ায় এক মাদক ব্যবসায়ীর
বাড়িতে ডিবির অভিযানে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় শুভ তথ্য দিয়েছিলেন—এমন সন্দেহ ছিল
মাদক কারবারিদের মধ্যে। ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে
প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
তবে
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে শুভর ধর্মীয় পরিচয়
নিয়ে পরিবারের বিরোধের নিষ্পত্তিও এখন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন