ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় ফের আলোচনায় উঠে এসেছে যুবলীগ নেতা আরিফ ও খলিলুর রহমান টিটুর নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু সময় আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তারা আবারও এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুসলিমনগর এলাকার বাসিন্দা আহমদের ছেলে আরিফ নিজেকে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দিতেন। অপরদিকে খলিলুর রহমান টিটু ফ্যাসিস্ট আমলে এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মান্নানের প্রভাববলয়ে থেকে আরিফ ও টিটু এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। এম এ মান্নানকে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বলে দাবি করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আরিফ ও টিটু কিছু সময়ের জন্য এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে তারা আবার মুসলিমনগরে ফিরে আসেন। বর্তমানে আরিফ প্রকাশ্যেই এলাকায় চলাফেরা করছেন এবং ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে তাদের পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হওয়ার পেছনে এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আরিফ ও টিটু এলাকা ছাড়লেও পরবর্তীতে মনির হোসেনের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তারা আবার ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে আরিফ ও টিটুকে এলাকায় অবস্থান ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ও প্রভাব খাটিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ রয়েছে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নয়াবাজার ও মুসলিমনগর এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মনির হোসেনের নামও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। কিশোর গ্যাংকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে স্থানীয় এসব অভিযোগের বিষয়ে মনির হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। একইভাবে যুবলীগ নেতা আরিফ ও খলিলুর রহমান টিটুর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকেও আরিফ, টিটু কিংবা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় কেউ আসামি হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান বাসিন্দারা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর