নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিরসনে শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। যানজট নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিআরটিএ, জেলা পরিষদ, পুলিশ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০
সেপ্টেম্বর) চাষাঢ়ায় যানজট নিরসনে পুলিশের চলমান অভিযানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের
সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার।
হাবিবুর রহমান
বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী। কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের
কারণে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক
মানুষ এখানে বসবাস ও প্রতিদিন চলাচল করেন। ফলে শহরের সড়কগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই
মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। এই বাস্তবতায় যানজট নিরসনে একক কোনো সংস্থার
পক্ষে কার্যকর সমাধান করা কঠিন।
তিনি বলেন, যানজট নিরসনে আমাদের সিটি
করপোরেশন, জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সবাইকে
একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, ইজিবাইকসহ
বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সংগঠনগুলোকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
পুলিশ সুপার জানান,
যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে সভা করা হয়েছে। ওই সভায়
যানজটের কারণ চিহ্নিত করে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান,
দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় দিন ধরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট নিরসনে
পুলিশের অভিযান ও তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর
পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের
অভিযানের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, সপ্তাহের এই দিনে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে বিভিন্ন
গন্তব্যে মানুষের যাতায়াত তুলনামূলক বেড়ে যায়। একই সময়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও
বিপুলসংখ্যক যানবাহন শহরে প্রবেশ করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে যানবাহনের
চাপ বাড়ে। এ কারণে যানজট পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।
তিনি বলেন, শহরের
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ ট্রাফিক
পুলিশের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বিদ্যমান আইন ও নিয়ম মেনে যানজটকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার
চেষ্টা করছেন।
পুলিশ সুপার
হাবিবুর রহমান বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করলেই যানজট সমস্যার স্থায়ী
সমাধান হবে না। শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থা, অবৈধ
দখলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
প্রয়োজন।
তিনি জানান,
মাঠপর্যায়ে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যানজট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে
তাদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ নিয়ে পরবর্তী সময়ে বৈঠকে বসবেন। এরপর সিটি করপোরেশন,
জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিআরটিএ, জেলা পরিষদ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক
সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত
ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ
সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. সোহেল রানা,
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. শামীম হোসাইনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন