ভিডিওতে দেখা যায়,
আটক কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের হাতে মোবাইল ফোনও দেখা যায়।
ফলে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামিদের কাছে মোবাইল ফোন কীভাবে পৌঁছাল এবং তারা
কীভাবে ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের সুযোগ পেলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট)
রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের
বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে ওই ১০ জনকে আটক করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা
হয়।
আটক ব্যক্তিরা
হলেন—আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০), ফেরদৌস (১৮), পলক
(১৭), আবু বকর (১৬), তানভীর (১৫), লিমন (১৭) ও নয়ন (১৮)। পুলিশ জানিয়েছে, আবরার
আহম্মেদ নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অপর নয়জন ফতুল্লা মডেল
থানার বিসিক এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের ভাষ্য,
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের ভূইগড়-সাইনবোর্ড এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিল ও নাশকতার
প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কের ওই
দুই এলাকায় পুলিশের একাধিক দল অবস্থান নেয়।
পরে রাতে সাইনবোর্ড
এলাকায় গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী সড়কে কয়েকজনকে জড়ো হতে
দেখে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে
আটক করা হয়।
পরে তাদের বিরুদ্ধে
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা করা হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভাইরাল ভিডিওটি
নিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের সঙ্গে
কথা হলে তিনি জানান, ভিডিওটির বিষয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে এবং বিষয়টি যাচাই করা
হচ্ছে।
ওসি বলেন, ভিডিওটি
থানার ভেতরে ধারণ করা হয়েছে কি না, কখন এবং কীভাবে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে এবং এর
সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য থানার সিসিটিভি ফুটেজও
পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান,
ভিডিওটি যদি ফতুল্লা থানার ভেতরের হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের
কাছে মোবাইল ফোন কীভাবে গেল এবং তারা কীভাবে ভিডিও ধারণের সুযোগ পেলেন, সেটিও
তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে ভিডিওটি
ফতুল্লা থানার লকআপেই ধারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত হতে রাজি হননি
ওসি। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ হেফাজতে থাকা
ব্যক্তিদের কাছে মোবাইল ফোন থাকা এবং সেই মোবাইল দিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ পাওয়ার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আসামিরা যদি সত্যিই
থানার লকআপে থাকা অবস্থায় ভিডিওটি ধারণ করে থাকেন, তাহলে তাদের কাছে মোবাইল ফোন
পৌঁছানোর বিষয়টি কীভাবে সম্ভব হলো এ প্রশ্নের উত্তরও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ভিডিওটি থানার বাইরে বা অন্য কোনো সময়ে ধারণ করা হয়ে থাকলে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ফলে ভিডিওটির প্রকৃত উৎস, ধারণের সময় ও স্থান এবং এটি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর
মন্তব্য করুন