এ লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার (১৫
সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার,
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের
প্রতিমন্ত্রীর কাছে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন তিনি। এতে প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্যতা
যাচাই, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে প্রকল্প
প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিও লেটারে বলা হয়েছে, আলীরটেকের
ডিক্রিরচর ঘাট অথবা যোগাযোগের জন্য উপযোগী অন্য কোনো স্থানে সেতু নির্মাণ করা হলে
আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের মূল অংশের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি
হবে। এতে দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা কমার পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি বিকল্প
সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার
প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ডিক্রিরচর-মীরকাদিম সড়কের (রোড আইডি-৩৬৭৫৮২০০৫)
আলীরটেক ডিক্রিরচর ঘাটকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সেতু বাস্তবায়িত
হলে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে ও তৃতীয়
শীতলক্ষ্যা সেতুর সঙ্গে নতুন একটি যোগাযোগ সংযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে
ধরা হয়েছে ডিও লেটারে। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে চট্টগ্রামমুখী
যানবাহনের একটি অংশ ঢাকার ভেতরে প্রবেশ না করেই বিকল্প পথে চলাচলের সুযোগ পেতে
পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেতুটি নির্মাণ হলে বক্তাবলী
ও আলীরটেক এলাকার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান
এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত সহজ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই
সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব
পড়তে পারে বলে ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষি খাতেও প্রস্তাবিত
সেতুটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে সেখানে বলা হয়েছে। বক্তাবলী, আলীরটেক
ও আশপাশের এলাকার কৃষিপণ্য দ্রুত নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা এবং
দেশের অন্যান্য বাজারে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহেও সময় কমতে পারে।
শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও
যোগাযোগ অবকাঠামোটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কাঁচামাল ও
উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর
হওয়ার পাশাপাশি নতুন ব্যবসা ও শিল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া উন্নত
যোগাযোগব্যবস্থার ফলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি
সেবাগুলো দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে পারবে বলে ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্যোগের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও সহজ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে ডিও লেটারে প্রস্তাবিত
সেতুটি শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হলেও আলীরটেকের ডিক্রিরচর ও
বক্তাবলীর মধ্যবর্তী এলাকায় ধলেশ্বরী নদী প্রবাহিত। ফলে সেতুটি কোন নদীর ওপর
নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা নিয়ে নথিতে একটি অসঙ্গতি রয়েছে।
বৃহত্তর জনস্বার্থ ও আঞ্চলিক
যোগাযোগব্যবস্থার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয়
সমীক্ষা এবং প্রকল্প প্রণয়নের প্রাথমিক উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ
জানিয়েছেন মাধবী মার্মা।
ডিও লেটারের অনুলিপি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছেও পাঠানো হয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন