নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য ও কাঁচপুর ইউনিয়ন
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম ডালিমকে একটি হত্যা মামলায় কারাগারে
পাঠিয়েছেন আদালত। পরে তাকে আরও একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সোনারগাঁ থানার একটি হত্যা মামলায় আদালতে
আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ডালিম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন
নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। তিনি
জানান, পরে ডালিমকে আরও একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে
তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
ডালিমের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, আসন্ন কাঁচপুর ইউনিয়ন
পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী তিনি। নির্বাচনের
আগে মামলাগুলোতে জামিনে থাকার উদ্দেশ্যেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন
করেছিলেন। তবে আদালত আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠান।
৫০ বছর বয়সী বিএম ডালিম কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার প্রয়াত
কুদরত আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর একই এলাকার
৩০ বছর বয়সী লিটন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের বড় বোন রাশিদা
বেগম সোনারগাঁ থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক
সহসভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুকে। আসামির তালিকায় দ্বিতীয় নাম ছিল বিএম
ডালিমের।
মামলাটি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী,
এ মামলায় ডালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও ডালিমের প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে
বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। গত ২১ জুন তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের
কার্যালয়েও দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন চাঁদাবাজির অভিযোগে
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল
ইসলাম সজীবকে আটক করা হয়। পরে তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হলে সেখানে
ডালিমকেও দেখা যায়।
পুলিশের গাড়িতে সজীবকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের
উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময়ও ডালিম এসপি কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় সাংবাদিকদের
ক্যামেরায় তার উপস্থিতির ছবি ধরা পড়ে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ডালিম নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ
সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সজীবকে আটকের খবর পেয়ে তিনি সেখানে
গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তারা।
তৎকালীন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল
মেহেদী জানিয়েছিলেন,
হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ডালিমের এসপি কার্যালয়ে
উপস্থিতির বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে সম্প্রতি বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে বিয়ে করার
অভিযোগ করেছেন ফারজানা আক্তার কানন নামে এক বিধবা নারী।
মানিকগঞ্জ সদরের বাসিন্দা কাননের অভিযোগ, ডালিম
প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে বিয়ে করলেও পরে সেই বিয়ের স্বীকৃতি দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ
করেন। এমনকি ডালিমের আগের স্ত্রীও তাকে মুঠোফোনে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন
তিনি।
কানন বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি
বলেন, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ডালিম তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং স্বীকৃতি
চাওয়ায় তাকে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তার দাবি,
গত বছর ডালিমের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয়
হয়। পরে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত বছরের ১০ মে
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় শরিয়া পদ্ধতিতে তাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন ও রেজিস্ট্রি করার আশ্বাস দেওয়া
হলেও পরে ডালিম তা করেননি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তবে এসব
অভিযোগের বিষয়ে বিএম ডালিমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন