জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেবেন।
রোববার
(১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ
ছাড়বেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ভাষণ দেবেন। সেখানে বাংলাদেশের নতুন
ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।’
তিনি
জানান, সফরকালে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে
প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ
পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন বৈঠকেও তিনি অংশ
নেবেন।
এসব বৈঠকে
বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান হুমায়ুন
কবির। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন ভিশন, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ
কর্মকৌশল তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে এবারের সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘ
অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমানের বৈঠক হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাথমিক উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ
পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে সেখানে ভাষণ দেওয়া।
তিনি
বলেন, সফরের সাইডলাইনে বিভিন্ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকের অনেক সিদ্ধান্তই
সাধারণত সফরের একেবারে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়।
ডোনাল্ড
ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান হুমায়ুন
কবির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর কার কার সঙ্গে বৈঠক
করবেন, তা চূড়ান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। বিষয়টি গোপন রাখা হবে না বলেও
উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর
এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে
একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হুমায়ুন
কবির বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকগুলোতে রোহিঙ্গা
ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের
নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও
কার্যকর ভূমিকা চাওয়া হবে।
জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাংলাদেশের
কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান
তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হবে এ সফরে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন