মঙ্গলবার (৮
সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায়
প্রধানমন্ত্রী এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। আগামী তিন মাসকে ডেঙ্গুর জন্য
ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয়
অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। মশার
প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। স্থানীয়
প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে
মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।
কর্মসূচির আওতায়
মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম
সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয়
পর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
এ অভিযানে দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ
ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির
স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হবে।
প্রতি শনিবার
স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় গিয়ে
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে এডিস মশার সম্ভাব্য
প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ি ও
আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে
মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক
প্রচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে
নিয়মিত জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা
ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় প্রধানমন্ত্রী
বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি
উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে
তুলতে হবে।
সভায় দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব
রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম,
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও
বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন