দেশের তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এলে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন ও পরিবর্তন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে প্রায় ২৩ লাখ স্কাউট, ২২ হাজার বিএনসিসি সদস্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে তাদের ঠেকিয়ে রাখার মতো শক্তি কারও নেই।
শনিবার (১২
সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে একটা সাহায্য চাই। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্কাউটের
সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। আর দেশের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। এবার আপনারা বলেন, আমরা
এতগুলো মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে?
পারবে না।’
তিনি বলেন, দেশের
উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে তরুণ সমাজকেই দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না
করে নিজেদের জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘এখন আপনাদের
দায়িত্ব নিতে হবে কীভাবে দেশকে গড়ে তুলবেন। দেশকে গড়ে তুলতে হবে, কারণ আমরা এখানে
থাকব,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণ সমাজের শক্তির
কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একটি দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী যখন পরিবর্তনের
লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তখন বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। ২০২৪ সালের ৫
আগস্ট তরুণ সমাজ তাদের শক্তি ও সক্ষমতা সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে বলেও
মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা
বিশ্বকে দেখিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ এখান থেকে শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, ডেঙ্গু
প্রতিরোধেও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী তিন মাস সবাই মিলে কাজ করলে
ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
‘আসেন, আগামী তিন
মাস ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু ৮০
ভাগ পারব,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে
পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
কর্মস্থল কিংবা আশপাশে পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত জিনিসপত্র ও পাত্রে পানি
জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়। এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করা গেলে ডেঙ্গুর
ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন,
ভাঙা-চোরা জিনিসপত্র, পরিত্যক্ত সামগ্রী কিংবা বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকলে
সেখানে এডিস মশা জন্ম নিতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের দিকে
তাকিয়ে না থেকে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে
সচেতনতা তৈরির উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর
সবাই যদি টিস্যু, পানির বোতল কিংবা অন্যান্য ময়লা মাঠে ফেলে চলে যান, তাহলে হয়তো
তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বাধা দেবে না। কিন্তু এভাবে ময়লা জমতে থাকলে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার
পাশাপাশি রোগ-জীবাণুর বিস্তার ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপনি
হয়তো ভাবতে পারেন, তাতে আমার কী হবে, আমি তো দূরে থাকি। কিন্তু আপনার আপনজন কিংবা
প্রিয়জন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কাজেই আমরা নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের
সমাজকে সুস্থ রাখি। দেশকে সুস্থ রাখি।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। প্রত্যেকে যদি সপ্তাহে মাত্র
এক ঘণ্টা নিজের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কারের কাজে ব্যয় করেন,
তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘কাজটা
খুব কঠিন না। আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। প্রতি সপ্তাহে আমরা যদি এক ঘণ্টা
সময় দিই, নিজেদের বাসা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থল পরিষ্কার করতে, তাহলে
অবশ্যই দ্রুততার সঙ্গে পরিবর্তন করতে সক্ষম হব।’
যারা যেখানে-সেখানে
ময়লা-আবর্জনা ফেলেন, তাদের নিরুৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের
দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘যারা
ময়লা-আবর্জনা করবে, আসুন তাদের আমরা নিরুৎসাহিত করি। তাদের বলি যেখানে-সেখানে ময়লা
করবেন না।’
তরুণদের উদ্দেশে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের সক্ষমতা দেখিয়েছে। এবার
সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
তারেক রহমান বলেন,
‘২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দেশকে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন
হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান—আসুন এবার আমরা রাষ্ট্রকে, দেশকে পুনর্গঠন
করি।’
প্রধানমন্ত্রীর
বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে একটি সামাজিক
আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান উঠে আসে। সরকারের পাশাপাশি দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ,
শিক্ষার্থী, স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্যসহ সাধারণ মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে
এলে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত
করেন।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন