নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য তফসিলকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে
মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি, জামায়াতে
ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—তিন দলই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক
অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কাজ করছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, দলীয় প্রতীক ছাড়াই স্থানীয় সরকার
নির্বাচন হলেও প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় সমর্থনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে একই পদে
একাধিক নেতা প্রার্থী হতে চাইলে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার
পরিকল্পনা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “আমরা
নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। মাত্র একটি জাতীয় নির্বাচন হলো। একটা প্রস্তুতি তো
আমাদের ছয় মাস আগেই নেওয়া ছিল এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতি রয়েছে।”
তিনি জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে
সামনে রেখে আগেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে
সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে জরিপ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
প্রার্থী চূড়ান্তের বিষয়ে মামুন মাহমুদ বলেন, “মাঠপর্যায়ে
জরিপ চলছে। তারপরে দল থেকে একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।”
একই পদে বিএনপির একাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায়
বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের
নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে
অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা কমানোর পাশাপাশি দলীয় ঐক্য ও সমন্বয় আরও দৃঢ় করার চেষ্টা
থাকবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে থাকা অধ্যাপক মামুন মাহমুদ আরও বলেন, “সরকার
উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পালন করছে, পাশাপাশি দলীয়
নেতাকর্মীরাও সেগুলো নিয়ে মাঠে কাজ করছে।”
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে
অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ
হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের
মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক আব্দুল মোমিন বলেন, “বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামী সুশৃঙ্খল সংগঠন। এখানে সংগঠনের পক্ষ থেকে যাদেরকে প্রার্থী ঘোষণা
করা হয়েছে, তারা অলরেডি তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আমাদের এখানে সংগঠনের বাইরে কোনো প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “মোটামুটি আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি
এবং তা অব্যাহত আছে।”
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে
গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির
নেতারা জানিয়েছেন,
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও
মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চলছে। তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম
প্রকাশ করা হবে।
এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান বলেন, “আমাদের
প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে সারা নারায়ণগঞ্জে। প্রার্থীদের কারও কারও নাম
ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েও গেছে। কেন্দ্র থেকেও নাম ঘোষণার নির্দেশনা আছে। আমরা
সময়মতো ঘোষণা করবো।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটগতভাবে
অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল দুটি পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার
প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনী সমীকরণ ও
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে কোথাও সমঝোতা বা কৌশলগত পরিবর্তনের
সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
সব
মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসিলকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের
রাজনীতিতে নতুন করে মাঠের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের তফসিল
ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে কোন দল কোন এলাকায় কাকে প্রার্থী করছে এবং শেষ পর্যন্ত
নির্বাচনী সমীকরণ কোন দিকে যাচ্ছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন