নারায়ণগঞ্জ নগরীর টানবাজার এলাকায় লয়েল ট্যাংক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়ক পঞ্চায়েত কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ, পঞ্চায়েত কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে টানবাজার এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, পঞ্চায়েত ব্যবস্থাটি এখন আর আমাদের মধ্যে নেই। এটি আদিকালে ছিল। কিন্তু এটি এখন ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সেসব কাজের সমাধান করা হয়। পঞ্চায়েত ব্যবস্থাটি এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে এলাকায় স্থায়ীভাবে সমাধানের প্রক্রিয়া ছিল।
তিনি পঞ্চায়েতের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এখানে যেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, মাদক, চুরি, ছিনতাই, খুন, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিষয়ে কথা হয়েছে। এসব বিষয়ে আমরা যারা সরকারে থাকি, তাদের ওপরেই দোষটা চলে আসে।
নির্বাচনের প্রথম দুই মাস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি, যেটি বিগত সরকার নিজের মতো করে নিয়েছিল, সেই জায়গা থেকে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যারা আছেন এবং আমরা সকলে একত্রে মিলে কাজ করব।
তিনি বলেন, আমরা আজকে আশাবাদী যে প্রশাসন। মনে করি, এই মুহূর্তে মোটামুটি একটা শেপে আসছি। যদিও কিছুটা আরও সময় লাগবে, তারপরেও আশাবাদী যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগত দিনগুলোর চেয়ে এখন অনেক ভালো দিকে যাচ্ছে। যুবসমাজের প্রতি কিছু দায়দায়িত্ব আছে। পারিবারিকভাবে যেটি নৈতিক দায়িত্ব, যে নৈতিক শিক্ষা, সেটি বিলীন হয়ে যাওয়াতে আমাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধটি চলে গেছে। সুতরাং এটাকে নিয়ে আসার পরিচর্যা করতে হবে।
সমাজব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে এমপি বলেন, আজকে যে সমাজব্যবস্থা, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাবে কোথায়? তাদের চিন্তা করার জায়গা কোথায়, শারীরিক পরিচর্যার জায়গা কোথায়, খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই। আমাদের মধ্যে একপ্রকার হাহাকার। এবং এই অভাব, ওই অভাব, এতে করে আমাদের প্রজন্ম বেড়ে উঠছে।
তিনি বলেন, যেমন আমরা এখানে মাদক, ছিনতাইকারী নিয়ে আলোচনা করছি। কিন্তু আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতির যে ঘাটতি, যে অব্যবস্থার কারণে আজকে সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, সে বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করছি না।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারাণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, আগের মুরুব্বি কালচারটা এখন নাই। কেউ আগে সিগারেটও যদি খেতো তাহলে মামা-চাচা দেখলে কলিজায় পানিও থাকতো না। কিন্তু এখন আর সেটা নেই। বর্তমান পঞ্চায়েত কমিটি সেটা ঠিক করবেন। তরুনদের নিয়ে শীতলক্ষ্যায় সাতার থেকে শুরু বিভিন্ন খেলার আয়োজন করতে পারেন। আমাদের ধীরে ধীরে পুরোন সংস্কৃতিতে ফেরৎ যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা ইয়াবা আসক্ত তারা সহজেই অপরাধ করতে পারছে। সম্প্রতি কিছু ঘটনায় আমরা সেটা দেখেছি। তারা হত্যা করতে কোন দিধা করেনা। এসব অপরাধ হচ্ছেই কেবল ইয়াবা আসক্তির জন্য। নারায়ণগঞ্জে এতো অটো রিক্সার প্রয়োজন নাই, কিন্তু এগুলো কেনো আসছে? শুধু জীবিকার জন্য আসছে এটা আমি বিশ্বাস করিনা। এখানে পলাতক আসামি আছে যারা অন্য জায়গায় অপরাধ করে এখানে অটো চালাচ্ছে। অনেকে মাদকের টাকার জন্য অটো চালাচ্ছে। এগুতে আমাদের পঞ্চায়েতের ভূমিকা আছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা আছে।
সভায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, সমাজে অপরাধ কমানোই সবার মূল লক্ষ্য। এ জন্য পঞ্চায়েত কমিটি, নাগরিক সমাজ, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
টানবাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার টাকা সংগ্রহের সময় ছিনতাইয়ের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। ওই এলাকায় বিশেষ টিমের মাধ্যমে সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে। বৃহস্পতিবারও বিশেষ নজরদারি থাকবে, যাতে ছিনতাইকারীরা অপরাধ করার সুযোগ না পায়।
দুই নম্বর গেটে বাস রাখার বিষয়েও কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, নগরে বাস রাখার নির্দিষ্ট জায়গার সংকট রয়েছে। ফলে দুই নম্বর গেটে বাস রাখার কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল আক্তার সোহান বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন। আগে এলাকাটি শান্তিপূর্ণ ছিল। বর্তমানে পুরো এলাকা শিল্পাঞ্চল হওয়ায় শ্রমিকদের চলাচল বেড়েছে। এর ফলে সামাজিক নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় বৃহস্পতিবার টাকা সংগ্রহের সময় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতারজ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান তিনি।
দুই নম্বর গেটে বাস রাখার কারণে যানজট ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথাও উল্লেখ করে সোহেল বলেন, সকালে শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ মানুষকে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। একই সঙ্গে টানবাজারের ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েন। বাসগুলো নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে চাষাঢ়া এলাকায় গেলে যানজট কমবে বলে তিনি মনে করেন।
সংগঠনটির সভাপতির শামসুজ্জামান চন্দনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, সদর থানার ওসি সাজেদুর রহমান, বাংলাদেশ ইয়াং মার্চেন্টের পরিচালক ও সাবেক যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ, চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর