বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিশনন্দী গ্রামে এ ঘটনা
ঘটে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আহত রহমান ওই এলাকার বাসিন্দা লোকমানের ছেলে। মারধরের ঘটনায় তিনি
গুরুতর আহত হলে তাকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার
রাতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে একটি চক্র বিশনন্দী
গ্রামে প্রবেশ করে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বিএনপি নেতা আল আমিন কয়েকজন
গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশাটি আটক করেন। তবে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কথিত মাদক
কারবারিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা চার বস্তা বিয়ার ফেলে যায় বলে
স্থানীয়দের দাবি।
পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা বিয়ারগুলো
নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে
গনি, আল আমিন, রমজান, ওবায়দুল্লাহ ও ইয়ামিন নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অটোরিকশাচালক সজীবও
তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে দাবি করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের
বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বিএনপি নেতা আল আমিনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে
বিরোধ আরও তীব্র হয়ে স্থানীয়ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের সাবুর গোষ্ঠী ও
চৌহরা গোষ্ঠী মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবুর গোষ্ঠী মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও চৌহরা গোষ্ঠীর লোকজন
অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের পক্ষ নিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতেই চৌহরা গোষ্ঠীর লোকজন রহমানকে
মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় এলাকায়
উদ্বেগ বিরাজ করছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আড়াইহাজার
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, মাদক
উদ্ধারের ঘটনায় আসামিদের পলাতক দেখিয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আর মারামারির
ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন