ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম।
মঙ্গলবার (২৫
আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকায় নিহত বুলবুলের
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ ফয়জুল
করিম বলেন, “আজকে বুলবুলকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার করতে ব্যর্থ হলে এই জনগণ
কিন্তু ছাড়বে না। এটাতে মাত্র এক নম্বর সিগন্যাল, সামনে আরো ভয়ানক সিগন্যাল আছে।”
সরকারের উদ্দেশে
তিনি বলেন, “আমি বিএনপি সরকারকে বলবো, আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। এই কয় মাস রাষ্ট্র
পরিচালনায় আপনি ভালো কিছু দেখাতে পারেন নাই। আপনি ব্যর্থ হয়েছেন।”
তিনি দাবি করেন,
বুলবুলের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায়
জড়িতদের চিহ্নিত সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও
বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ও মামলা থাকলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
তিনি বলেন, “তার
কোনো স্বাভাবিক বিদায় হয় নাই, তাকে হত্যা করা হয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাকে খুন
করেছে। এরা বারবার মানুষকে খুন করেছে। বহুত অন্যায়ের সাথে তারা জড়িত। এ
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বারবার মামলা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ
করতে পারেনি।”
হত্যাকাণ্ডের পেছনে
প্রশাসনের দুর্বলতাকেও দায়ী করে তিনি বলেন, “প্রশাসন যদি সচেতন থাকতো, আগের থেকে
অপরাধীদের বিচার করতো, তাহলে অপরাধ সংঘটিত হতো না।”
অপরাধীদের
দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত হলে খুন ও অন্যান্য অপরাধের সংখ্যা কমে আসবে বলেও
মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা।
তিনি বলেন,
“খুনিদের বিচার না হওয়ার কারণেই খুন হয়। অপরাধের বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধ বাড়তে
থাকে। দুর্নীতিবাজদেরকে বিচার না করার কারণেই গোটা সমাজ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে।”
এ সময় সরকারের
বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি নারী নির্যাতন, দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার
ব্যয় বৃদ্ধি, ঘুষ-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ তোলেন। প্রশাসন ও সরকারকে সতর্ক
হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
নিহত বুলবুল
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান
মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম।
এ সময় ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক
সুলতান মাহমুদ, সহসভাপতি নুর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, ২১
নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত
ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর
মন্তব্য করুন