এ ঘটনায় ভুক্তভোগী
প্রবাসী মো. রুহুল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এবং নারায়ণগঞ্জের
পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা
যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এনায়েতনগর পশ্চিমপাড়া এলাকার গোদনাইল
মৌজায় জমি কিনে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে বসতবাড়ি গড়ে তোলেন রুহুল আমিনের পরিবার।
সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগসহ দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।
রুহুল আমিন প্রবাসে
থাকার সুযোগে মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার দলবল নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে
আরও দাবি করা হয়, জমি দখল ঠেকাতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধিতে মামলা করা হলে আদালত
ওই জমির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও আনোয়ার ও তার
সহযোগীরা সেখানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
অভিযোগে বলা হয়েছে,
একপর্যায়ে প্রবাসীর বাড়িতে স্থাপিত ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের
(ডিপিডিসি) বিদ্যুৎ মিটার অজ্ঞাত ব্যক্তিরা খুলে নিয়ে যায়।
বিষয়টি ডিপিডিসিকে
জানালে সংস্থাটির একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিবারের
দাবি, পরিদর্শনের পর ওই কর্মকর্তা তাদের জানান, ডিপিডিসির কোনো কর্মকর্তা বা
কর্মচারী মিটারটি খুলে নেননি।
এ ঘটনায় পরে
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী
পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী,
পরবর্তী সময়ে ডিপিডিসির কর্মকর্তারা নতুন মিটার স্থাপনের জন্য ওই বাড়িতে গেলে
মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের লোকজন তাদের কাজে বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। এ কারণে
কর্মকর্তারা মিটার স্থাপন না করেই ফিরে যান বলে পরিবারের দাবি।
প্রবাসী রুহুল আমিন
বলেন, ‘আমি বিদেশে থাকার সুযোগে মোফাজ্জল ও তার লোকজন আমার বাড়ি জবরদখলের চেষ্টা
করছে। মামলা করার পর থেকে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে আমার
পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’
অভিযোগে মোফাজ্জল
হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে আগের মামলা ও দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা
হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ
অনুযায়ী, ২০০৬ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির মামলায় গত বছরের ১০
আগস্ট নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন।
এ ছাড়া দলীয়
শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগে কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে নারায়ণগঞ্জ
মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদসহ দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে বলেও
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ ও
মামলার বিষয়ে মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল
ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিদ্যুৎ মিটার-সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পর্কে তিনি
এখনো অবগত নন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন