মঙ্গলবার (৮
সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন
আহত হোসেন আলীর স্ত্রী শাকিলা আমান তুলি। তিনি জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে
তাদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ
দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে
লিখিত অভিযোগ তুলে ধরে তুলি বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে রোকন, মাসুদ, মামুন
আব্দুল্লাহ ও মো. আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে
পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় বিএনপির
রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ,
হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে স্টিলের আলমারি, খাট, শোকেস, টেলিভিশন, ড্রেসিং
টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে
বলে দাবি করেন তিনি।
তুলি আরও অভিযোগ
করেন, হামলায় বাধা দিতে গেলে তার স্বামী হোসেন আলীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা
চালানো হয়। এ সময় তার মাথা, হাত ও পেটে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হামলার সময় তিনি ও
তার স্বামী আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তার কাছ থেকে প্রায় এক ভরি আট আনা
স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তুলি। এর আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪৫
হাজার টাকা বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া দুটি স্টিলের আলমারির লকার ভেঙে প্রায় ৫ লাখ
টাকা নগদ, স্বর্ণালংকার ও দুটি স্মার্টফোন লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তুলির দাবি, হামলার
ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি বা মামলা-মোকদ্দমা করলে তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার
হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে
জানানো হয়।
হামলার সম্ভাব্য
কারণ সম্পর্কে তুলি বলেন, মসজিদের জন্য চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার স্বামীর
সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
পাশাপাশি পূর্বশত্রুতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে
হোসেন আলীর ছোট ভাই রবিন মিয়া বলেন, মসজিদ কমিটির মেয়াদ নিয়ে কথা-কাটাকাটির
একপর্যায়ে কমিটির সাবেক এক সেক্রেটারি চাঁদা দাবি করেন। এ সময় রোকন নামের এক
ব্যক্তিকে তার ভাই হোসেন আলী থাপ্পড় মারেন বলে দাবি করেন রবিন। এর জের ধরে রামদা,
চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও রিভলভার নিয়ে তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ
করেন তিনি।
রবিন মিয়া বলেন,
“আমরা সন্ত্রাসীমুক্ত সমাজ চাই। আমার ভাইয়ের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের দ্রুত
আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে
হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং আহত হোসেন
আলীর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ
থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগের বিষয়ে
অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন