সম্প্রতি ঘোষিত কমিটিতে কামাল প্রধানকে আহ্বায়ক এবং মো. পিন্টুকে
সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া মো. আবুল কাশেমকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সোহরাব
ভূঁইয়াকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মাহমুদুল্লাহকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। ২১ সদস্যের এ
কমিটিতে আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন পদে রাখা হয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে
যুক্ত থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং রাজনৈতিক
প্রতিকূলতার সময় মাঠে থাকা অনেক নেতাকর্মী কমিটিতে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাননি।
বিপরীতে কয়েকজন নেতার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ
পদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।
কমিটির আহ্বায়ক কামাল প্রধানকে নিয়েও তৃণমূলের একটি অংশ প্রশ্ন
তুলেছে। তাদের দাবি,
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি দীর্ঘ সময় পর দেশে
ফিরেছেন। দীর্ঘদিন দলের রাজনীতিতে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে প্রবাসে থাকা
একজনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে কামাল প্রধানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দীর্ঘদিন
দেশে না থাকা এবং তার দলীয় ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন,
সেগুলো তাদের অভিযোগ বলেই জানা গেছে।
সদস্য সচিব মো. পিন্টুকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের।
তাদের দাবি, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত
প্রার্থীর পরিবর্তে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে থাকা প্রার্থী শাহ আলমের হরিণ প্রতীকের
পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে দলীয় প্রার্থীর নির্বাচনী
ফলাফলে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
একই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল
কাশেমের বিরুদ্ধেও। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, ওই নির্বাচনে তিনি বিএনপির
বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের ফুটবল প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ
নিয়েছিলেন।
যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব ভূঁইয়াকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন
নেতাকর্মী। তাদের দাবি,
অতীতে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এমন একজনকে নতুন কমিটিতে
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল্লাহর বিরুদ্ধেও দলীয় সিদ্ধান্তের
বাইরে গিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের কয়েকজন
নেতাকর্মী। তাদের দাবি,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি শাহ আলমের হরিণ প্রতীকের
পক্ষে কাজ করেছিলেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের নতুন
কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের সাংগঠনিক মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তাদের দাবি, বক্তাবলী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে যারা বিএনপির
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়
ছিলেন এবং রাজনৈতিক দুঃসময়ে মাঠে থেকেছেন, তাদের ভূমিকা ও
ত্যাগকে গুরুত্ব দিয়ে কমিটিটি পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।
তৃণমূল
নেতাকর্মীরা আরও বলেন,
নতুন কমিটি নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ দ্রুত নিরসন করা না হলে ইউনিয়ন
পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই দলের দায়িত্বশীল নেতাদের
বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন