নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও দুইজন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি)।
তবে নারী ও শিশু
নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন পিপি হিসেবে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়ার নিয়োগকে
কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু
হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির নিয়মিত সদস্য হিসেবে তার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই
গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে কয়েকজন আইনজীবী সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ এ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের কথাও
বলছেন।
মঙ্গলবার (২৫
আগস্ট) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের জিপি-পিপি শাখা থেকে এ সংক্রান্ত
আদেশ জারি করা হয়। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব
(জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া
পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট তিন আইনজীবী নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের নিয়োগ
অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী,
নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)
হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া। তিনি খালেক হাওলাদারের ছেলে।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন
অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস অর্চি এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মাসুম।
তাদের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস অর্চি আনোয়ার হোসেন খানের মেয়ে এবং মোহাম্মদ হাবিবুর
রহমান মাসুম মৃত মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের ছেলে।
একই আদেশে
নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি পদে ২০২৪ সালের ২৯
অক্টোবর নিয়োগ পাওয়া অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লার নিয়োগসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা
হয়েছে।
নতুন নিয়োগের পর
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে ঘিরে। নারায়ণগঞ্জ জেলা
আইনজীবী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৮ অক্টোবর ২০১৪ সালে মেট্রোপলিটন বারে আইনজীবী
হিসেবে এনরোলমেন্ট লাভ করেন। পরবর্তীতে ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা
আইনজীবী সমিতির নিয়মিত সদস্যপদ লাভ করেন।
এ অবস্থায় জেলা
আইনজীবী সমিতির নিয়মিত সদস্য হিসেবে তার সদস্যপদের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নারী
ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি পদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন
তুলছেন সমিতির একাংশের সদস্যরা।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন আইনজীবী এ নিয়োগের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা
করছেন। তাদের কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট নিয়োগের নীতিমালা ও শর্ত যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন।
আবার কেউ কেউ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আইনজীবীদের আন্দোলনে নামার কথাও উল্লেখ করেছেন।
তবে এ বিষয়ে আইন,
বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট সুমন
মিয়াসহ তিন নতুন সরকারি আইনজীবীর নিয়োগ পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং তাদের
দায়িত্ব অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন নিয়োগকে
কেন্দ্র করে আইনজীবী মহলে তৈরি হওয়া আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যেই এখন নজর রয়েছে—এ
বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো
অবস্থান নেয় কি না।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর
মন্তব্য করুন