জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭
আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ
দেন।
এর আগে মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক মজিবুর রহমান
ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। গত ২০ আগস্ট করা ওই
আবেদনের শুনানির জন্য আদালত ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে
তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। সালমান শাহর
মৃত্যুর পর থেকেই তার পরিবার, বিশেষ করে মা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে
আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা
চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে
জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়,
ডনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান ও
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হতে পারে।
তদন্ত কর্মকর্তা
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কী
কারণে, কার ইন্ধনে এবং কীভাবে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন—সেসব বিষয়েও
তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
গত ৯ আগস্ট হযরত
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে
তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওই দিনই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো
হয়।
এরপর ১২ আগস্ট
সিএমএম আদালতে তার জামিন আবেদন করা হলেও তা নাকচ হয়। পরে ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতেও
তার জামিন আবেদন খারিজ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬
সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান তৎকালীন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার
ইমন ওরফে সালমান শাহ। এ ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরে সালমান
শাহর পরিবার তার মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ তোলে।
১৯৯৭ সালের ২৪
জুলাই সালমান শাহর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে
অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে
অপমৃত্যুর ঘটনা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করে সিআইডি।
তবে ওই বছরের ৩
নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে
উল্লেখ করে। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। পরে
সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা।
দীর্ঘ আইনি
প্রক্রিয়ার পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত
বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ
দেন।
এর পরদিন ২১
অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ
আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের
বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্য
আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক
লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস
ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে
অভিযোগ করা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর দিন পরিবারের সদস্যরা নিউ ইস্কাটনের বাসায়
গিয়ে তাকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান,
তিনি আগেই মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন থাকার
অভিযোগও করা হয়।
সালমান শাহর বাবার
মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবারের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর।
এদিকে, হত্যার
প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলন করে সুরতহাল ও
ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে গত ২০ মে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে
আদালত এ বিষয়ে অনুমতি দেন। দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গত ২২ জুন
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে
নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলায় তদন্ত
প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর
মন্তব্য করুন