এত বড় পরিসরে বিদেশের ভিন্ন কন্ডিশনে তরুণ ও নতুন ক্রিকেটারদের
পরখ করার সুযোগ আগে খুব বেশি পায়নি বাংলাদেশের নির্বাচকরা। এসব সফরের মাধ্যমে যেমন
সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের সন্ধান মিলেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা
রাখার আগে তাঁদের কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, সেটিও স্পষ্ট
হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও এইচপি দলের প্রধান
কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন মনে করেন, নিয়মিত বিদেশ সফরের সুযোগ তৈরি
করা গেলে জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী হবে।
এই সফরগুলোর সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিগত সাফল্য এসেছে তৌহিদ হৃদয়ের
ব্যাট থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে বেসরকারি টেস্টে
অপরাজিত ৩৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির
ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েন হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও
কোনো বিদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ প্রথম শ্রেণির ইনিংস এটি।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় নজর কেড়েছেন রহস্য স্পিনার মো. রুবেল।
ডারউইনে অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২৩ উইকেট নিয়ে আলোচনায় আসেন ৩০ বছর
বয়সী এই ক্রিকেটার। টুর্নামেন্টে একটি পাঁচ উইকেট ও দুটি চার উইকেটের স্পেল করেছেন
তিনি। তাঁর পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে নির্বাচকদের নজরেও এসেছে।
রুবেল প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার বলেন, গত বছরের বিপিএল থেকেই
তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, রুবেল একজন রহস্য
বোলার, নিয়মিত পারফর্ম করার পাশাপাশি ভালো ফিল্ডিংও করেন।
বয়স তাঁর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পথে বাধা হবে না।
বাশারের মতে, শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স দিয়ে একজন
খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য কতটা প্রস্তুত, তা
নির্ধারণ করা কঠিন। এ দলের বিদেশ সফর খেলোয়াড় ও নির্বাচকদের সেই বাস্তবতা বুঝতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন মোহাম্মদ
সালাহউদ্দিন। তাঁর মতে,
হাই পারফরম্যান্স পর্যায়ে পরিপক্বতার দিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার
ক্রিকেট এখনো বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বিশেষ করে পেস বোলিংয়ে দুই দেশের মধ্যে
ব্যবধান স্পষ্ট হয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে কীভাবে বোলিং করতে হয়,
এই সফর থেকে বাংলাদেশের পেসাররা গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন
করছে।
ব্যাটিংয়ে অবশ্য দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট সালাহউদ্দিন। তাঁর
মতে, সাদা বলের ক্রিকেটে দুই দল কাছাকাছি লড়াই করেছে। লাল বলের ক্রিকেটেও
বাংলাদেশ বেশ ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পেরেছে।
নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই টেস্টের সিরিজ
রয়েছে। তার আগে ‘এ’ দলের সফরকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন হাবিবুল বাশার। বিশেষ
করে দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যে সমস্যা বাংলাদেশি
ক্রিকেটারদের প্রায়ই হয়,
এবার আগেভাগেই সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।
বিদেশ সফরে শুধু নতুনদেরই নয়, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদেরও সুযোগ দেওয়া
হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ৩৪ বছর বয়সী সাব্বির রহমান ও
৩৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ মিঠুনকে দলে রাখা হয়। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে সাব্বির দুটি
ফিফটির পাশাপাশি ৪৭ রানের একটি ইনিংস খেলেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ওয়ানডে অংশে খেলেছেন মিঠুন।
অভিজ্ঞদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বাশারের অবস্থান পরিষ্কার—অবসর না
নেওয়া পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটারই নির্বাচকদের বিবেচনার বাইরে নন। বয়স দীর্ঘমেয়াদি
পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ফর্ম ও
পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিনও মনে করেন, ‘এ’ দল, এইচপি
কিংবা ইমার্জিং দলের হয়ে বিদেশে খেলার সুযোগ একজন ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক
ক্রিকেটের আবহের সঙ্গে পরিচিত করে। একই সঙ্গে নিজের সামর্থ্য, দুর্বলতা ও কোথায় আরও উন্নতি করা প্রয়োজন—সেটিও বুঝতে সাহায্য করে।
সব
মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার চার সফরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে দুটি ইতিবাচক
দিক স্পষ্ট হয়েছে—একদিকে উঠে এসেছে নতুন প্রতিভা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ কয়েকজন
ক্রিকেটারও নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন। এখন এই সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক
ক্রিকেটে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোই নির্বাচক ও কোচদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন