২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জ-৫
আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেতা এ কে এম সেলিম ওসমানের অবস্থান নিয়ে
নানা আলোচনা থাকলেও তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এরই মধ্যে
অভিযোগ উঠেছে, তিনি দেশ ছাড়েননি; বরং নারায়ণগঞ্জে অবস্থান
করেই নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। আর এসব ব্যবসার দেখভালে তার ঘনিষ্ঠ
বিএনপি নেতা শওকত হাসেম শকু ভূমিকা রাখছেন—এমন দাবি করেছেন বিএনপির একাধিক নেতা।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক ১২ নম্বর ওয়ার্ড
কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। তার ভাষ্য, তিনি কারও ব্যবসা-বাণিজ্য দেখভাল
করেন না। তিনি বলেন, “আমি ডাল-ভাত খাই, ভালো আছি। কারও ব্যবসা
দেখভাল করার মতো সময়ও আমার নেই।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেলিম ওসমানের সঙ্গে শওকত হাসেম শকুর
ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ছিল বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি।
বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। এমনকি ২০২৩ সালের একটি ভিডিওতে
শকুকে বলতে শোনা যায়,
অনেকে তাকে সেলিম ওসমানের ‘দালাল’ বলেন এবং এতে তিনি গর্ববোধ
করেন।
ওই ভিডিও এবং সেলিম ওসমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে
বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করছেন, ৫ আগস্টের পরও সেলিম ওসমানের
ব্যবসা-বাণিজ্য নারায়ণগঞ্জে সচল রাখতে শকু ভূমিকা রাখছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতার দাবি, সেলিম
ওসমানের বিভিন্ন ব্যবসা এখনো নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এর পেছনে শকুর ভূমিকা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো নথি বা
প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেননি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, আওয়ামী
লীগ সরকারের সময় সেলিম ওসমানের সঙ্গে শকুর প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতার কারণে বর্তমান
অভিযোগগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে কারও ব্যবসা পরিচালনার
সঙ্গে শকুর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য
প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শওকত হাসেম শকু বলেন, “অভিযোগ থাকলে অভিযোগ লিখে
দেন। আমাকে জিজ্ঞেস করার কী হলো? একজন মানুষের সম্পর্কে
না জেনে এভাবে মন্তব্য করা কি উচিত?”
সেলিম ওসমানের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে ২০২৩ সালের
ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে শকু বলেন, “এইটা তো নতুন না, ২০২৩ সালের ভিডিও। তার সঙ্গে
সম্পর্ক নেই কার? কার সঙ্গে তার ছবি নেই? আমার সঙ্গে আইভীরও ভালো সম্পর্ক ছিল। আমাকে সেলিম ওসমানের দালাল বললে
আইভীর দালাল বলা হয় না কেন?”
সবশেষে
সেলিম ওসমানের ব্যবসা-বাণিজ্য দেখভালের অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে শকু বলেন, “আমি ভাই কারও
ব্যবসা-বাণিজ্য দেখভাল করি না। আমার ওই সময় নাই। আমি ডাল-ভাত খাই, ভালো আছি।”
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন