নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও অপরাধজগতের আলোচিত অনেক মুখ ৫ আগস্টের পর দৃশ্যপট থেকে সরে গেলেও তাদের ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ এখনো সক্রিয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। সেই তালিকায় আলোচনায় এসেছে ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে পরিচিত খালেদ হায়দার খাঁন কাজলের নাম। রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যবসায়িক বলয় ও সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে তিনি কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে নারায়ণগঞ্জের
প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলয়ের সঙ্গে কাজলের যোগাযোগ ছিল। সেই রাজনৈতিক
প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি ব্যবসায়িক ও ঠিকাদারি ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব বিস্তার
করেন—এমন দাবি স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশের।
বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জের এলজিইডি, গণপূর্ত ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের টেন্ডার ঘিরে কাজল একটি
শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছিলেন। শুরুতে কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার
নিয়ন্ত্রণে থাকা টেন্ডার কার্যক্রম পরবর্তী সময়ে তার প্রভাববলয়ে চলে যায় বলেও
অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য নথি বা আদালতে প্রমাণিত তথ্যের
বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার
কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি কাজলকে ঘিরে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান এবং বিচার-সালিশের নামে অর্থ আদায়ের মতো অভিযোগও রয়েছে। এসব
অভিযোগের সত্যতা অবশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরেও কাজলের নাম নতুন করে
আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে,
১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রাইফেল ক্লাব থেকে অস্ত্র সরবরাহ এবং
আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল। ওই দিনের সহিংসতায় অস্ত্র
ব্যবহারের সঙ্গে কাজলের সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করলেও এ বিষয়ে তার
বক্তব্য বা আদালতে প্রমাণিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এদিকে কাজলের বর্তমান অবস্থান নিয়েও নানা দাবি রয়েছে। পারিবারিক
সূত্রের বরাত দিয়ে একটি সূত্রের দাবি, তিনি ঢাকার ধানমন্ডির সোবহানবাগ
এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সেখানে তার
সঙ্গে দেখা করতে যান বলেও ওই সূত্রের দাবি। তবে তার বর্তমান অবস্থান স্বাধীনভাবে
যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই প্রশ্ন উঠছে—দীর্ঘদিন ধরে
প্রভাবশালী বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা যদি এখনো ধরাছোঁয়ার
বাইরে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত কতটা এগিয়েছে?
কাজলকে
ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা, তার বর্তমান অবস্থান এবং ২০২৪ সালের
জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় তার কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তই
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন