বৃহস্পতিবার (১০
সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি
কণ্ঠভোটে দিলে তা পাস হয়।
এর আগে ৩
সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট
সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করা হলেও বিলটির
বিভিন্ন ধারার ওপর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি
জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ বিলটি পাসের জন্য
উত্থাপন করলে বিরোধী দলীয় নেতা ও অন্যান্য সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন।
বিরোধী দলীয় নেতার
বক্তব্যে বলা হয়, র্যাব বিলুপ্ত করে শুধু নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন করলে
জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তার মতে, প্রয়োজনীয়
সংস্কার ও জবাবদিহির কাঠামো নিশ্চিত না করে আইনটি পাস করা উচিত নয়।
বিরোধী সদস্যরা আরও
বলেন, র্যাব বিলুপ্তির পর পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ ও শক্তিশালী স্বাধীন জবাবদিহি
ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে নতুন এসআরবি শেষ পর্যন্ত র্যাবেরই নতুন রূপ নিতে
পারে। এ কারণে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী,
মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া র্যাবের
পুরোনো নথি, গুমের অভিযোগসংক্রান্ত আলামত ও রেকর্ডপত্র সরাসরি নতুন বাহিনীতে
হস্তান্তরের আগে পৃথকভাবে তালিকাভুক্ত ও সংরক্ষণের দাবি তোলা হয়, যাতে
গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকে।
পাস হওয়া আইনের ৪
ধারায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা
হয়েছে। বাহিনীটির সদর দপ্তর হবে ঢাকায়। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য
শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে
এসআরবির জনবল গঠন করা হবে।
এসআরবির প্রধান
হিসেবে থাকবেন একজন মহাপরিচালক। তিনি পুলিশের অন্তত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক
(অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা হবেন। প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল
কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে তার ওপর।
আইনের ১০ ও ১২
ধারায় এসআরবির দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা,
সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার ও মাদকসহ
বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে বিশেষায়িত ইউনিটটি কাজ করবে।
অপরাধীদের
গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও আলামত জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির নিজস্ব হেফাজতে রাখার সুযোগ
থাকবে না। আইন অনুযায়ী তা দ্রুত নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে।
এ ছাড়া এসআরবির
সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদালত, সরকার অথবা পুলিশ প্রধানের
নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত করতে পারবেন।
এসআরবির সদস্যদের
দায়িত্বে অবহেলা, মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালন, বেআইনি দখল, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির
ওপর নির্যাতন বা বেআইনি বলপ্রয়োগ, প্ররোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য
করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অপরাধ প্রমাণিত হলে
বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্তসহ বিভিন্ন শাস্তির
বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিরস্কার ও জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বাহিনীর সদস্যদের
বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ
‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনের উদ্দেশ্য
সম্পর্কে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত সামাজিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে অপরাধের ধরন ও
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম আধুনিক ও দক্ষ বিশেষায়িত
বাহিনী প্রয়োজন। র্যাব বিলুপ্তির মাধ্যমে সেই কাঠামো পুনর্গঠন করে স্বচ্ছতা,
পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির ভিত্তিতে এসআরবি গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আইন কার্যকর হওয়ার
সঙ্গে সঙ্গে র্যাব-সংক্রান্ত আগের বিধানগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে
বিলুপ্ত র্যাবের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল ও নথিপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির
অধীনে ন্যস্ত হবে।
বিরোধী দলের আপত্তি
সত্ত্বেও সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হওয়ায় এখন নতুন এই বিশেষায়িত বাহিনীর কাঠামো ও
কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন