বৃহস্পতিবার (১০
সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক
এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার
ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী
হিসেবে সাক্ষ্য দেন কাউসার আহমেদ।
৫১ বছর বয়সী কাউসার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের
যুগ্ম আহ্বায়ক। এছাড়া সরকারি গেজেটে তাকে ‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে
অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে কাউসার
আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে
তিনি চাষাঢ়া মোড়ে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে
২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।
সাক্ষ্যে তিনি ওই
দলে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল,
টিপু, দিপু ও সাইদ ছিলেন বলে দাবি করেন।
কাউসারের দাবি,
হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে তার বাম পায়ে আঘাত লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায়
লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে
চিকিৎসা পাননি বলে ট্রাইব্যুনালে জানান তিনি।
এরপর তাকে ঢাকার
মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে
পায়ের গুলি অপসারণ করা সম্ভব নয় বলে জানান বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন কাউসার। পরে ৮
আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা থেকে গুলি বের করা হয় বলে জানান তিনি।
জবানবন্দিতে কাউসার
আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের ওই হামলায় আরও অনেক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হন। এ সময়
স্বজন নামে এক যুবক নিহত হন বলেও তিনি সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন।
ট্রাইব্যুনালে
দেওয়া বক্তব্যে কাউসার বলেন, শামীম ওসমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে ওই সময় বহু মানুষ
হতাহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে
কাউসার আহমেদকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী আমির হোসেন, আলী হায়দার ও
মুসতাভী হাসান রাতুল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও
আবদুল্লাহ আল নোমান।
মামলার ১২ আসামিই
বর্তমানে পলাতক বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক
সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, মিনহাজ
উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, রাজু আহমেদ, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল
হাসান মুন্না, শাহ নিজাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সোহানুর
রহমান শুভ্র।
ট্রাইব্যুনালে
মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন