মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নাগরিক দুর্ভোগের মতো সমস্যাগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি,
দল বা গোষ্ঠীর একক বিষয় নয়। এসব থেকে সমাজকে মুক্ত করতে
প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
তিনি বলেন,
মাদক ও অপরাধ
নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার
মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গোগনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের
কেন্দ্রীয় বাইতুচ্ছালাত জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া
বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে
গিয়ে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসনের
পাশাপাশি স্থানীয় আলেম-ওলামা, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও
তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে আরও
সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন,
মানুষের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যায়-অবিচয় দেখলে সত্য কথা বলার সাহস রাখতে হবে। সেই
বক্তব্য কারও পক্ষে কিংবা বিপক্ষে গেলেও ন্যায়ের জায়গা থেকে কথা বলার আহ্বান জানান
তিনি।
তরুণ প্রজন্মকে অপরাধমুক্ত রাখতে যুবসমাজের প্রতি দায়িত্বশীল
হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রেখে
ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমাজের অভিজ্ঞ ও বয়োজ্যেষ্ঠদেরও
এগিয়ে আসতে হবে।
জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির বিষয়েও বক্তব্য দেন আব্দুল্লাহ আল আমিন।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনিও ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তার কোনো কর্মকাণ্ডে অনিয়ম
বা ভুল থাকলে জনগণ যেন প্রশ্ন করেন এবং তা সংশোধনের সুযোগ দেন।
উন্নয়ন বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ।
এ অর্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর
স্বার্থে ব্যয় করার সুযোগ নেই। এলাকার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জনকল্যাণমূলক
কাজে এসব অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।
এ সময় আনুষ্ঠানিকতার সীমাবদ্ধতা থেকে বের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে
সরাসরি যাওয়ার কথাও জানান তিনি। এলাকার মানুষের কথা শুনে বাস্তব সমস্যাগুলো
চিহ্নিত করে সাধ্যমতো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংসদ সদস্য।
জুমার নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা
বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া শোনেন। পরে গোগনগরের বিভিন্ন এলাকা
ঘুরে নাগরিক দুর্ভোগ ও স্থানীয় সমস্যাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এ সময়
মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি
দল-মত নির্বিশেষে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার
আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন