নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেছেন, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবার মান অত্যন্ত নাজুক। তার দাবি, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর একটি নির্দিষ্ট কোডভিত্তিক মূল্যায়নে রূপগঞ্জের অবস্থান ৪২৩তম, যা ঢাকা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ।
শনিবার (১২
সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রূপগঞ্জ উপজেলা
বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে
তিনি এসব কথা বলেন।
রূপগঞ্জ প্রাইভেট
হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির
আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার
কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সগুলোর অবস্থান তুলে ধরে এমপি দিপু বলেন, “একটা কোড আছে, যাতে বোঝা যায়
আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটা কেমন। সোনারগাঁ ছিল ৩৪তম, আড়াইহাজার ছিল ১১৪তম,
বন্দর ১৮১তম এবং রূপগঞ্জ হলো ৪২৩তম। আমার জানামতে, ঢাকা বিভাগের ভেতর সবচেয়ে খারাপ
হাসপাতাল হিসেবে গণ্য হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।”
রূপগঞ্জের
জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা অপ্রতুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
উদ্দেশে দিপু ভূঁইয়া বলেন, “আপনি শুনলে অবাক হবেন, ২০ লাখ লোকের জন্য মাত্র ৫০
শয্যার একটি হাসপাতাল এখানে। তাতে গড়ে বোঝা যায় ৪০ হাজার লোকের জন্য একটা শয্যা।
মানে, ৪০ হাজার লোক যদি অসুস্থ হয় তাহলে একটামাত্র শয্যা পাবে।”
তিনি বলেন,
শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকা হিসেবে রূপগঞ্জে মানুষের চিকিৎসাসেবার চাহিদা দিন দিন
বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য বিদ্যমান ৫০ শয্যার হাসপাতাল পর্যাপ্ত নয় বলেও
তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এমপি দিপু বলেন,
“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই দেশে চিকিৎসার অভাবে আর কোনো মানুষ মারা যাবে না। যার
সফলতা আমরা আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে দেখছি।”
তিনি আরও বলেন,
“উনি সারাদেশে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল সারা বাংলাদেশে দিচ্ছেন। আমরা আশা করবো,
রূপগঞ্জে ২০ লাখ লোকের মাঝখানে ১৫১-এর বেশি শয্যার হাসপাতাল উনি দেবেন।”
রূপগঞ্জের
স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি
আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জন্য উন্নত ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা
নিশ্চিত করতে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয়
বিএনপি নেতাকর্মী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন