মঙ্গলবার (১৫
সেপ্টেম্বর) ইউনাইটেড এ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন)
স্বাক্ষরিত এক নোটিশে কারখানা বন্ধের এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
নোটিশে কারখানা
কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
সংকট, চলমান অর্ডার নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি করতে না পারা, নতুন অর্ডার না পাওয়া
এবং ব্যাংকিং সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। এ
কারণে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি,
বেতন পরিশোধে বিলম্বের বিষয়কে কেন্দ্র করে গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রমিকরা
সংঘবদ্ধভাবে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক
শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেও উৎপাদন
কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি।
নোটিশে আরও বলা হয়,
উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কারখানার জরুরি রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে
প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। শ্রমিকদের উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘটনাকে
কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বেআইনি ধর্মঘট হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এ পরিস্থিতিতে
কারখানার সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১)
ধারা অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা
হয়েছে বলে নোটিশে জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে কারখানা পুনরায় চালুর উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হলে
নোটিশের মাধ্যমে কারখানা খোলার তারিখ জানানো হবে। তবে বন্ধের সময়ের জন্য শ্রমিকদের
কোনো মজুরি দেওয়া হবে না বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে কারখানার
নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের এ বন্ধের আওতার বাইরে রাখা
হয়েছে।
কারখানা বন্ধের
বিষয়টি অবগতির জন্য নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিল্প পুলিশ-৪-এর
পুলিশ সুপার, বিকেএমইএর সভাপতি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শ্রম
অধিদপ্তর এবং ফতুল্লা মডেল থানায় নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কারখানার
মালিক নবী নেওয়াজ লিটনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন’
জানিয়ে কলটি কেটে দেন। ফলে কারখানা বন্ধের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া
যায়নি।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন