বেতন পরিশোধ না করে পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইউনাইটেড এ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার (১৫
সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের মাসদাইর পুলিশ লাইনের সামনে এ
অবরোধের ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকদের অভিযোগ,
সময়মতো বেতন পরিশোধ না করেই কর্তৃপক্ষ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
করেছে। বেতন পরিশোধ এবং দ্রুত কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে তারা বিক্ষোভে নামেন।
শিল্প পুলিশের তথ্য
অনুযায়ী, বেতন পরিশোধের দাবিতে রোববার ও সোমবার দুই দিন কর্মবিরতি পালন করেন
কারখানাটির শ্রমিকরা। এ সময় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে দুই থেকে তিন দফা বৈঠক করে
বেতন পরিশোধের জন্য কিছুটা সময় চায়। তবে শ্রমিকরা এতে সম্মত হননি।
এরপর মঙ্গলবার
মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা,
গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটসহ বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে চলতি মাসের বেতন পরিশোধ করা
সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বেতন পরিশোধ করা হবে বলেও
শ্রমিকদের জানানো হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ
শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
করে কর্তৃপক্ষ।
কারখানা বন্ধের খবর
ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে তারা বেতন
পরিশোধ ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে সড়কে নেমে আসেন।
শিল্প পুলিশের
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক নেতা হাসনাতের নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ শ্রমিক এ কর্মসূচিতে
অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক নেতার কার্যালয়ে যান। অন্য ১৫০ জন
মাসদাইর পুলিশ লাইনের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে ফতুল্লা
মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে শ্রমিকদের
কারখানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার
পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের
বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে কারখানার ভেতরে মালিকপক্ষ, শ্রমিক ও
প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
শিল্প পুলিশের
পরিদর্শক আনোয়ারুল হক বলেন, শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে দুই দিন
কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। মালিকপক্ষ তাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করে বেতন দিতে
সময় চাইলেও শ্রমিকরা তাতে রাজি হননি। পরে কারখানা বন্ধের ঘোষণা আসায় শ্রমিকরা সড়কে
বিক্ষোভ করেন।
এদিকে শ্রমিকদের
সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ওই অংশে প্রায় ৪৫ মিনিট যান চলাচল
ব্যাহত হয়। পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার পর সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কারখানা বন্ধের
ঘোষণা ও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিয়ে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ
নিরসনে প্রশাসনের উপস্থিতিতে আলোচনা চলমান রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন