অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে কৃত্রিম আঙুলের ছাপ তৈরি, সেই ছাপ ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিম নিবন্ধন এবং ভুয়া এনআইডি তৈরি করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
শনিবার (২৩ আগস্ট)
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ সদর কোম্পানির একটি
আভিযানিক দল ফতুল্লার মধ্য নরসিংপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা
হলেন—ফতুল্লার মধ্য নরসিংপুর এলাকার মো. মহিউদ্দিন (২৯) ও মো. শিশির (২৭)।
র্যাব জানায়,
অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি
রাবার সিল তৈরির মেশিন, ৮০টি রাবার সিলের প্লাস্টিক স্ট্যান্ড, আটটি বায়োমেট্রিক
স্ক্যানার, এক হাজার ফিঙ্গারপ্রিন্টের রাবার কিট, ৩৫টি ট্রেসিং পেপার, ১০০টি রবি
সিমকার্ড, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একাধিক সচল ও ব্যবহৃত সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি ও
সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের দাবি,
চক্রটি অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কৌশলে সাধারণ মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ
ও ক্রয় করত। পরে ট্রেসিং পেপারে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ছাপ নিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায়
রাবারের কৃত্রিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করা হতো। এরপর বায়োমেট্রিক স্ক্যানার ব্যবহার
করে ওই কৃত্রিম আঙুলের ছাপ দিয়ে অবৈধভাবে নতুন সিমকার্ড নিবন্ধন করা হতো।
র্যাব আরও জানায়,
এসব নিবন্ধিত সিম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে
ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি বা পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে। পরে এসব
ভুয়া এনআইডি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন
মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ
হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাব-১১
জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও
দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর তাদের বিরুদ্ধে
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর
মন্তব্য করুন