বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে বন্দর থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে
বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিসুর রহমান।
থানা পুলিশের একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়, র্যাবের
অভিযানে আটক একটি ট্রাক ও এর মালামাল বন্দর থানায় জব্দ রাখা হয়। এ ঘটনায় নিয়মিত
মামলাও করা হয়। বুধবার ভোরে থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. ফরিদ নিজে উপস্থিত
থেকে ঘাট শ্রমিক মো. আলামিনকে দিয়ে ওই ট্রাক থেকে একটি গ্যালনে প্রায় ২৫ লিটার
ডিজেল নামিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে গ্যালনটি থানার খেয়াঘাটে টোল আদায়ের দোকানের
পেছনে রাখা হয় বলে জানা গেছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুর ১টার দিকে দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে
গিয়ে ডিজেলের গ্যালনটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্ত কনস্টেবল মো.
ফরিদকে বন্দর থানা থেকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই ঘটনায় রূপালী এলাকার
বাসিন্দা দিনমজুর মো. আলামিনকে আটক করা হলেও দিবাগত রাত ২টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া
হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
এদিকে,
এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে বন্দর থানার ভেতর থেকে ডাকাতি মামলায়
উদ্ধার করা একটি অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায়
শাকের ও শাকিল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানার ভেতরে একের পর এক জব্দ
মালামাল চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, থানার অভ্যন্তরে জব্দ মালামালের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। সেখানে জব্দ তেল ও অন্যান্য
মালামাল চুরির ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বশীলতা এবং তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ওসি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দায়িত্বে
অবহেলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাম্প্রতিক
হত্যাকাণ্ডের দায়-সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ স্থানীয় মহলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে,
সেগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসব বিষয়ে ওসি জামাল
উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন
রিসিভ করেননি।
ঘটনাটি
নিয়ে থানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে
সংযোজন করা হবে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন