ভারতীয় সংগীতের আকাশে যার কণ্ঠ যুগের পর যুগ মুগ্ধতা ছড়িয়েছে, তিনি আশা ভোঁসলে।
সুরের জগতে আট দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে
শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন কিংবদন্তি এই শিল্পী।
এবার তার
প্রয়াণের পরও নতুন করে শোনা যাবে তার কণ্ঠ।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আশা ভোঁসলের জন্মবার্ষিকী।
বিশেষ এই
দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রকাশ করা হচ্ছে তার রেকর্ড করা শেষ গান। ফলে প্রয়াত
এই কিংবদন্তির কণ্ঠে আরও একবার নতুন সুরের আবেশে ফিরবেন তিনি- এমন খবরেই
আবেগাপ্লুত সংগীতপ্রেমীরা।
আশা ভোঁসলের কণ্ঠে রেকর্ড করা শেষ গানটি থাকছে আসন্ন
কমেডি-ড্রামা সিনেমা ‘ওম কা হরি’-তে। ‘এ মেরি জিন্দেগি, তু ছুপি হ্যায়
কাহাঁ’ শিরোনামের গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২৩ সালের শেষ দিকে।
তখন শিল্পীর
বয়স ছিল ৯০ বছর।
দীর্ঘ সংগীতজীবনের শেষ প্রান্তেও তার কণ্ঠের জাদু যে
এতটুকু ম্লান হয়নি, এই গানটি যেন তারই আরেকটি স্মারক হয়ে থাকছে। প্রিয় শিল্পীর শেষ রেকর্ড
করা গান শুনতে তাই স্বাভাবিকভাবেই অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।
চলতি বছরের ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন আশা ভোঁসলে।
আট দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনে ১২ হাজারের বেশি গান গেয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের
সংগীত ইতিহাসে নিজের নাম অমর করে গেছেন তিনি।
তার প্রয়াণের পর প্রথম জন্মবার্ষিকীতে শেষ গান প্রকাশের
উদ্যোগকে তাই শুধু একটি গান প্রকাশ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা; বরং এটি কিংবদন্তি
শিল্পীর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর এক বিশেষ আয়োজন।
পরিচালক হরিশ ব্যাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আশা ভোঁসলের
জন্মবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হরিশ ব্যাস পরিচালিত ‘ওম কা হরি’ একটি কমেডি-ড্রামা
ঘরানার সিনেমা। এতে অভিনয় করেছেন অংশুমান ঝা, রঘুবীর যাদব, সোনি রাজদান ও আয়েশা কাপুর।
সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা অংশুমান ঝাও আশা ভোঁসলের
শেষ গানটি ঘিরে আবেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, সিনেমাটি তার কাছে অত্যন্ত বিশেষ।
আশা ভোঁসলে চলে গেছেন, কিন্তু তার কণ্ঠ থেমে যায়নি।
জন্মদিনে প্রকাশিত হতে যাওয়া এই শেষ গান হয়তো আরও একবার মনে করিয়ে দেবে- কিংবদন্তিরা
চলে যান, সুরে তারা থেকে যান অনন্তকাল।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন