বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে
কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুন মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের বিভিন্ন
সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মধ্যে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং মেধার
বিকাশে সহযোগিতা করা অন্যতম। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ
পিছিয়ে থাকলেও এ জেলার সামনে এগিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ ও সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন,
‘আমাদের লিড দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই মেধাবী
শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে জেলা পরিষদ এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।’
কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, ‘তোমাদের
সাফল্যে আমরা গর্বিত। মেধাবীদের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা নেগেটিভ নারায়ণগঞ্জ চাই না, আমরা পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ চাই।’
নারায়ণগঞ্জকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনের আহ্বান
জানিয়ে তিনি বলেন,
অতীতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে জেলার যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি
তৈরি হয়েছে, তা মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের হাত ধরেই
পরিবর্তন করতে হবে। ভবিষ্যতে বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলে নারায়ণগঞ্জকে দেশের সেরা জেলা
হিসেবে দেখতে চান বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, শিল্প, সাহিত্য
ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নারায়ণগঞ্জের প্রতিভাবানদেরও জেলা পরিষদ সহযোগিতা করবে বলে
জানান মামুন মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের অর্থায়নে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো
ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬
শিক্ষাবর্ষের মোট ৭১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনার পাশাপাশি
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এককালীন নগদ অর্থ সহায়তা এবং একটি করে ফলদ গাছের চারা উপহার
দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমানের
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সচিব রামানন্দ পাল, সহকারী প্রকৌশলী নাহিদ ইসলামসহ
পরিষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা পরিষদের সচিব
রামানন্দ পাল।
সভাপতির বক্তব্যে মাশফাকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের
শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, নিজেদের সম্পর্কে জানার
এবং নিজেদের প্রশ্ন করার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। নিজের ভেতরের সক্ষমতা আবিষ্কার
করে সেখান থেকেই শেখার চেষ্টা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে
সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত
জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও
উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন