শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও কমিউনিস্ট নেতা কমরেড সুনীল
রায়ের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায়
বক্তারা শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুনীল রায়ের সংগ্রামী আদর্শ ধারণ করে শ্রমিক ও
মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় নারায়ণগঞ্জ নগর
কেন্দ্রীয় শ্মশানে সুনীল রায়ের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে
কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
(সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সুনীল রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সিপিবির কেন্দ্রীয়, জেলা ও
শহর কমিটির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট ও
সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট শ্রমিক
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রগতি লেখক সংঘসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক
ও গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ
চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর
মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুল
ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, সিপিবি জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা এবং কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য
বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান বাঙ্গালী।
বক্তারা বলেন, কমরেড সুনীল রায় শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা
ছিলেন না, তিনি ছিলেন শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার
আদায়ের আন্দোলনের একজন নিবেদিত সংগঠক। কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা শোষণ ও
বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে
মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
তারা আরও বলেন, পাকিস্তানি শাসনামলে শ্রমিক আন্দোলন ও
শ্রেণিসংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে সুনীল রায়কে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন, কারাবরণ ও আত্মগোপনের মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবুও
শ্রমিক-মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে তিনি কখনো পিছপা হননি।
বক্তারা জানান, ১৯২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
নবীনগর থানার শ্যামগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল রায়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের
সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকার চিত্তরঞ্জন কটন মিলে তাঁত শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন
শুরু করেন। শ্রমিকের জীবন ও বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট
তিনি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেন। নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টির
সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, সুনীল রায়ের জীবন ও সংগ্রাম
বর্তমান প্রজন্মের শ্রমিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
শিক্ষা হয়ে আছে। তার আদর্শ অনুসরণ করে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায় এবং
শোষণ-বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আরও শক্তিশালী করতে হবে।
এ সময় লুটপাট, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি,
দখলদারিত্ব ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে
তোলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা
নিশ্চিতকরণ এবং একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন
জোরদারের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ
রাজনৈতিক ও শ্রমিক আন্দোলনের সংগ্রামী জীবনের অবসান ঘটিয়ে কমরেড সুনীল রায় ২০০১
সালের ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে মৃত্যুবরণ করেন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন