নারায়ণগঞ্জে প্রবেশের সময় মানুষের মনে যেন শহরটি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, সে লক্ষ্যেই চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
শনিবার (১২
সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক
রোডে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সচেতনতামূলক র্যালি শেষে
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মো.
রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা পুরো লিংক রোড পরিষ্কার রাখতে চাই, যেন নারায়ণগঞ্জে মানুষ প্রবেশ
করতেই প্রথমে একটি ভালো ধারণা হয়ে যায়। আমরা এটা নিয়েই কাজ করতে চাই।’
লিংক রোডে যত্রতত্র
ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে
জেলা প্রশাসক বলেন, যেসব স্থানে বর্তমানে ময়লা জমে আছে, সেগুলো পরিষ্কার করার
পাশাপাশি ভবিষ্যতে সেখানে যাতে কেউ আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নেওয়া
হবে।
তিনি বলেন, ‘এই জায়গাটি আজকে পরিষ্কার
করা হবে। এরপর থেকে যেন এখানে আর কোনো ময়লা-আবর্জনা ফেলা না হয়, সে ব্যবস্থা করা
হবে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় ময়লা রাখার ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করছি।’
জেলা প্রশাসক
জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে
ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নাগরিকদের নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান
জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সেগুলো সহজে অপসারণ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘সারা শহরে যদি আমরা
ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখি, তাহলে কখনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর করতে পারব না।
ফলে একটি অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকবে।’
চাষাঢ়া থেকে
সাইনবোর্ড পর্যন্ত লিংক রোডকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা
প্রশাসক বলেন, এ সড়কে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ
কাজে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হবে।
প্রয়োজনে উপজেলা
পরিষদ ও জেলা পরিষদ থেকেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা
করা হবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও
বলেন, জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে
জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়েও স্বেচ্ছাসেবী
দল তৈরি করা হয়েছে। এসব দলের মাধ্যমে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতি
শনিবার নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল,
ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা স্থান এবং দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকা এলাকাগুলোকে এ
কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
এ সময় নাগরিকদেরও
নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শুধু
প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এজন্য
সাধারণ মানুষকেও যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে আবর্জনা ফেলার অভ্যাস গড়ে
তুলতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন,
পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গেও সরাসরি
জড়িত। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে কোথাও যাতে পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না
হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা
কার্যক্রম ও র্যালিতে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, সদর
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন, প্রকৌশলী ইয়াছিন আরাফাত, ফতুল্লা
থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী
ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মনিরুল ইসলাম সেন্টুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান,
চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নারায়ণগঞ্জের প্রবেশপথ হিসেবে
পরিচিত। তাই এ সড়ককে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন রাখতে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো গেলে
নগরীর সামগ্রিক পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন