ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগের পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দেশে ফেরার পর তার ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে বাসায় গেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে
বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন বাঁধন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে
তার ও পরিবারের খোঁজ নিতে বাসায় এসেছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাঁধন
লিখেছেন, তার আন্তরিকতা, সৌজন্য ও দায়িত্বশীলতায় তিনি সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। কঠিন সময়ে
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছে বলেও জানান
তিনি।
বাঁধন বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থা এ ঘটনায়
আরও দৃঢ় হয়েছে। তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তি হলো জনগণ। নাগরিকের
নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে আস্থার জায়গাটিও
শক্তিশালী হয়।
ইতালির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বাংলাদেশ সরকার, সরকারপ্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগসহ যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তার ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।
নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে বাঁধন বলেন, অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের
বিরুদ্ধে মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ।
মতের পার্থক্য থাকতেই পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন নাগরিকের নিরাপত্তা,
মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস করা উচিত নয়। মানুষ ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ
হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বেড়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাকে
সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই অভিনেত্রী।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। উৎসব চলাকালে মেস্ত্রে এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় একদল বাংলাদেশি তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাঁধনের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তার দিকে পানি, কোমল পানীয় ও
ডিম ছুড়ে মারে এবং তার ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় পুলিশের
কাছে অভিযোগও করেন। পরে বিষয়টি তদন্তে নামে ইতালির পুলিশের বিশেষ শাখা ডিগোস।
বাঁধন অভিযোগ করেছিলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে তার ভূমিকার
কারণে তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কয়েকজন নিজেদের
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দিয়েছিল বলেও তিনি জানান। তবে হামলার
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ইতালির
পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট বাঁধনের সঙ্গে
যোগাযোগ করে এবং আইনি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। বাংলাদেশ সরকারও বিষয়টি
ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার কথা জানিয়েছিল।
১৪ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পর এবার পরিবারের খোঁজ নিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বাসায় যাওয়ার বিষয়টি সামনে এলো। বাঁধনের ভাষায়, সংকটের সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাওয়া
এই সহমর্মিতা তাকে আশ্বস্ত করেছে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন