নারায়ণগঞ্জের এনায়েতনগর
ইউনিয়নের পশ্চিম মাসদাইর পাকাপুল গলিতে দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার অভিযোগ
উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ময়লা ফেলায় এলাকার একটি পুকুর এখন
প্রায় আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও
জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ
করে বলেন, শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতের আঁধারেও বিভিন্ন
স্থান থেকে ভ্যানযোগে ময়লা এনে ওই পুকুরে ফেলা হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন সময় মৃত কুকুর,
গরু ও ছাগলও সেখানে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের ভাষ্য, পচা-বাসি
বর্জ্যের দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ময়লার স্তূপ থেকে পোকামাকড় বের হয়ে সড়কে
ছড়িয়ে পড়ায় পথচারীদের চলাচলেও ভোগান্তি তৈরি হয়।
পুকুরটির আশপাশে ঘনবসতিপূর্ণ
এলাকায় হাজারো মানুষের বসবাস। পাশাপাশি এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক
পোশাকশ্রমিক যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে থাকায় শিশুদের বিভিন্ন রোগে
আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী জানান, সমস্যা
সমাধানে সম্প্রতি স্থানীয় বাড়িওয়ালারা একটি সোসাইটি গঠন করেন। পুকুরের জমে থাকা
ময়লা পরিষ্কার এবং চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপির
এক বহিষ্কৃত নেতার বাধার কারণে সেই উদ্যোগ থেমে যায় বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার
কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুকুরটিতে ফের নিয়মিত বর্জ্য ফেলা শুরু হয়েছে। এতে
আগের চেয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ অবস্থায় পশ্চিম মাসদাইর
পাকাপুল গলির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
নিশ্চিত করা এবং পুকুরটিকে দূষণমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি
হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী।
একই সঙ্গে রাতের আঁধারে কারা সেখানে বর্জ্য ফেলছে তা
শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ
নেওয়া হলে এলাকাটি আবারও স্বাভাবিক ও বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ফিরে পাবে বলে
প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন