নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন
ওরফে বুলবুল হত্যা মামলায় ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধান শেখ সিফাতসহ সাতজনের ১০ দিনের
রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার আরও চার নারীকে তিন দিনের
রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল
ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
আদালত পুলিশ জানায়, বন্দর থানার হত্যা মামলায়
গ্রেপ্তার ১১ আসামির প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে
সাতজনকে ১০ দিন এবং চার নারীকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
১০ দিনের রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন
ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), মো. সিয়াম (২৫), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩),
ইরফান (২৯) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)।
অন্যদিকে,
তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে মিনারা (৩৫), রুমা (৩৬), নাসিমা ও ইয়াসমিনকে (৪০)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে
বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলায় গুরুতর আহত হন ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা
(পশ্চিম) কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০)। পরে তাকে উদ্ধার
করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারালো
অস্ত্রসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নিহত বুলবুলের ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা
মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই বুলবুলের
অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২০ আগস্ট তিনি
বন্দর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়। মামলা
দায়েরের পর থেকেই বুলবুলকে আসামিরা হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেখ সিফাতের
নেতৃত্বে তার সহযোগীরা বুলবুলকে লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর ও কুপিয়ে
জখম করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে
হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ১৪টি মামলা
রয়েছে। তার সহযোগী জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে
চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
জেলা
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই,
চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন
অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা
হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারও হয়েছিল।
দ্যা প্রেস নেওস/এফজে
মন্তব্য করুন