রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির
ও কলেজ প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একাডেমিক কাউন্সিলের
অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে ছাত্রাবাস চালুর কথা
জানিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
বৈঠকে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম
রাজীব, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসানসহ কলেজ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে আজিজুল ইসলাম রাজীব বলেন, ছাত্রাবাস দ্রুত খুলে
দেওয়ার বিষয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একমত হয়েছে। ছাত্রাবাসে থাকা শিক্ষার্থীরা যাতে
নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন, সে বিষয়ে দুই সংগঠন সহযোগিতা
করবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সবাইকে
দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ৫
আগস্টের ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের অংশ হিসেবে বৈঠকটি হয়েছে। ছাত্রাবাস
চালু করা এবং অস্থায়ীভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানই ছিল আলোচনার মূল
বিষয়। তিনি জানান, ছাত্রাবাস চালুর বিষয়ে অধ্যক্ষ
আগামীকালের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
কলেজের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি তোলারাম কলেজে
প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে
মতবিরোধ হলেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
তিনি জানান, ছাত্রাবাস চালুর বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর
নোটিশ জারি করে ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।
কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা
যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে ছাত্রনেতারা সহযোগিতার আশ্বাস
দিয়েছেন। ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব শিক্ষার্থী ও
ছাত্র সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছে প্রশাসন।
এর আগে,
গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সভায়
বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে
দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে ওইদিন বিকেলে ইসদাইর এলাকায় অবস্থিত শের-ই বাংলা
ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সংঘর্ষের সময় ছাত্রশিবিরের সমর্থকদের ওপর হামলা, লুটপাট ও
ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক
করতে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সর্বশেষ
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মহানগর
নেতারা দুই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার কলেজ
প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দীর্ঘ ১৮ দিন পর ছাত্রাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন